২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সামাজিক সুরক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের কর্মসূচি বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খাতে মোট ১৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত উন্নয়ন কর্মসূচিতে নির্বাচনি ইশতেহারের পাঁচটি মূল স্তম্ভ—রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংহতি—একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নিম্ন আয়ের পরিবার, প্রান্তিক কৃষক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা বাড়বে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের প্রস্তুত করা সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ‘বিশেষ প্রয়োজনভিত্তিক সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের অধীনে এই বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবার কার্ড কর্মসূচির জন্য, যার পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচিতে নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় কৃষক কার্ড ও পরিবার কার্ড কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ মূলত নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ। পাশাপাশি বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর অর্থায়নও অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, আয় কমে যাওয়া এবং নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার কমিশনের বর্ধিত সভায় প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচির খসড়া প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা আসবে সরকারি ও নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে। গত অর্থবছরের তুলনায় এবারের আকার প্রায় ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

