Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, মে 17, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » করদাতার টাকায় ব্যাংক টিকিয়ে রাখা—কতটা যৌক্তিক?
    অর্থনীতি

    করদাতার টাকায় ব্যাংক টিকিয়ে রাখা—কতটা যৌক্তিক?

    নিউজ ডেস্কমে 17, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ড. ফাহমিদা খাতুন দেশের শীর্ষ গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনীতি ও উন্নয়ন ভাবনায় তার দীর্ঘদিনের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেন। সেখানে তিনি খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জেফ্রি স্যাকসের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

    গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী কাজে আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের আর্থিক খাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্র্যাকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ‘সমতাভিত্তিক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থনীতির পুনঃকৌশল নির্ধারণ এবং সম্পদ সংগ্রহ বিষয়ক টাস্কফোর্স’ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) শক্তিশালী করার জন্য গঠিত টাস্কফোর্সেও তিনি সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন। আসন্ন বাজেটকে ঘিরে অর্থনীতির অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত—এ বিষয়ে তিনি নিজের প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেছেন।

    প্রথম বাজেটে সরকারের অগ্রাধিকারের জায়গায় কোন খাতগুলো থাকা উচিত?

    নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজস্ব আয় বাড়ানো, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাজেটের বড় অংশ চলে যায় ঋণের সুদ, ভর্তুকি ও পরিচালন ব্যয়ে। উন্নয়ন ব্যয়ের গুণগত মান কমে গেছে। তাই নতুন বাজেটে শুধু বড় বড় প্রকল্প নয়, মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

    মানুষ এখন বড় বড় প্রকল্পের চেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, চাকরি এবং আয় বৃদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই বাজেটের সফলতা মাপা উচিত শুধু প্রবৃদ্ধির সংখ্যায় নয়। মানুষের জীবন কতটা স্বস্তি পেল তার ভিত্তিতে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার ও ওষুধের প্রাপ্যতা, শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির নিশ্চয়তা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সহজলভ্যতা—এসব বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাহলেই প্রবৃদ্ধি তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

    অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণে বৈশ্বিক সংকটকালে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আমাদের শেয়ার খুবই কম। এদিকে মনোযোগ বাড়াতে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে কী ধরনের অভিমুখ প্রত্যাশা করছেন?

    বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। তাই এলএনজি, কয়লা ও তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য অস্থিরতা তৈরি হলেই আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়, ডলারের ওপর চাপ বাড়ে, ভর্তুকি বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়, এটি এখন অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।

    দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো খুবই কম। মোট জ্বালানির ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অথচ আমাদের মতো রোদপ্রধান দেশে সৌরবিদ্যুতের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে আমি জ্বালানির ক্ষেত্রে তিনটি বড় উদ্যোগ দেখতে চাই।

    প্রথমত, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু বড় সৌর প্রকল্প নয়, শিল্প-কারখানা, সরকারি ভবন, স্কুল, হাসপাতাল এবং শহুরে আবাসনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে কর সুবিধা ও সহজ ঋণের মাধ্যমে উৎসাহ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ খাতে শুধু সক্ষমতা নয়, নির্ভরযোগ্যতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক সময় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে কিন্তু জ্বালানি নেই। ফলে কাগজে সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। এজন্য জ্বালানি মিশ্রণ পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার অপচয় ও অদক্ষতা কমাতে হবে। শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না। সঞ্চালন ও বিতরণে যে ক্ষতি হয় তা কমানোও জরুরি। স্মার্ট গ্রিড, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং বিকেন্দ্রীকৃত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ ও টেকসই জ্বালানি’ ভাবনায় যেতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে উঠবে সবুজ জ্বালানির ওপর।

    ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও মন্দ ঋণ সংকট কাটছে না। দুর্বল ব্যাংকগুলো নিয়ে নতুন সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত? ব্যাংক ও আর্থিক খাতে পেশাদারত্ব ও শৃঙ্খলা ফেরাতে আপনার পরামর্শ কী হবে?

    ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। খেলাপি ঋণ শুধু একটি আর্থিক সমস্যা নয়। এটি সুশাসন, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক অর্থনীতির সমস্যা। বছরের পর বছর দুর্বল ব্যাংককে টিকিয়ে রাখা হয়েছে, নিয়ম ভাঙার সুযোগ দেয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঋণ আদায়ে কঠোরতা দেখানো হয়নি।

    বর্তমান সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য বাস্তবভিত্তিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা নেয়া। দুর্বল ব্যাংকগুলোর প্রকৃত স্বাস্থ্য পর্যালোচনা এবং তাদের প্রকৃত সম্পদের অবস্থা সম্পর্কে সঠিক হিসাব করে সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব ব্যাংককে করদাতাদের টাকায় কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা ঠিক হবে না। কিছু ব্যাংক একীভূত করতে হবে, কিছু ব্যাংকের পরিচালনা পরিবর্তন করতে হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক চাপের বাইরে থেকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন হবে। ঋণ পুনঃতফসিলের সংস্কৃতি সীমিত করতে হবে। নিয়মিত খেলাপিদের জন্য বারবার সুযোগ দিলে ভালো ঋণগ্রহীতারাও নিরুৎসাহিত হন।

    একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পেশাদার ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। ব্যাংককে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালাতে হবে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জায়গা হিসেবে নয়। আর্থিক খাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের গুণগত মূল্যায়ন জোরদার করতে হবে।

    সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করে। এতে বেসরকারি খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়ে? সরকারের আয়ের/রাজস্বের বিকল্প উৎস কী হতে পারে?

    সরকার যখন ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেয়, তখন বেসরকারি খাতে ঋণের প্রাপ্যতা কমে যায়। ফলে উদ্যোক্তা, শিল্প খাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রয়োজনীয় ঋণ পায় না বা বেশি সুদে পায়। এর ফলে নতুন বিনিয়োগ কমে যায়, কর্মসংস্থান কম সৃষ্টি হয় এবং অর্থনীতির গতিশীলতা কমে যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশে আটকে ছিল। ২০২৫ অর্থবছরে এটি আরো কমে ২২ শতাংশের কাছে নেমে এসেছে।

    সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর সবচেয়ে বড় উপায় হলো কর ব্যবস্থার সংস্কার। বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত এখনো খুব কম। ২০২৫ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল। সংকীর্ণ করজাল, কর সংগ্রহের দুর্বলতা, কর ফাঁকি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ইত্যাদি কারণে কর আদায় বাড়ছে না। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

    কর ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে হবে। করের আওতা বাড়াতে হবে কিন্তু একই সঙ্গে হয়রানি কমাতে হবে, সরকারি সেবার মান বাড়াতে হবে যাতে মানুষ কর দিতে আগ্রহী হয়। কর ব্যবস্থাকে আরো সহজ, ডিজিটাল এবং স্বচ্ছ করতে হবে। একই সঙ্গে হঠাৎ কর বাড়ানো বা পরিবর্তনের সংস্কৃতি কমাতে হবে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা কমানো, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি পুনর্বিবেচনা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয় কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ঋণ নিয়ে বাজেট চালানো দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

    ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কথা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্নজনের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে শিক্ষা ও গবেষণায় এবারের বাজেট বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত? বৈশ্বিক মানদণ্ডে আমাদের সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা খাপ খাইতে পারছে না কেন?

    বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানুষ। কিন্তু জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষা ও গবেষণায় বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো আমাদের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এখনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় কম। শিক্ষা বাজেট এখনো জিডিপির ২ শতাংশের নিচে। আবার যতটুকু বরাদ্দ হয় তার মধ্যে ভবন নির্মাণ এবং কেনাকাটাতেই বেশি খরচ হয়। কিন্তু আমরা সবাই জানি, শুধু অবকাঠামো বানালেই শিক্ষা উন্নত হয় না। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে হয়।

    বর্তমানে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো গুণমানসম্পন্ন শিক্ষার অভাব এবং দক্ষতার ঘাটতি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেক তরুণ চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। শিক্ষিত তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেকারত্বের হার কম শিক্ষিতদের তুলনায় বেশি। আবার শিল্প খাত যে ধরনের দক্ষ জনবল চায়, সেই অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা গড়ে ওঠেনি। এর একটি বড় কারণ হলো শিক্ষানীতি ও শ্রমবাজারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। বিশ্ব এখন ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের দিকে যাচ্ছে। আমাদের পাঠ্যক্রমে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নতুন বাজেটে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশেষ তহবিল গঠন করা প্রয়োজন।

    সরকারপ্রধান সম্প্রতি সিলেটে এক জনসভায় ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতের বাজেট এমনিতেই ছোট আবার যা ব্যয় হয় তার বড় অংশ যায় অবকাঠামোতে। হামের টিকার সংকটে কয়েকশ শিশুকে মরতে হলো। স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় প্রথম বাজেটে সরকার কোন দিকে জোর দিতে পারে?

    স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অবস্থা আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। হামের টিকা সংকটে শিশুমৃত্যুর ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে শুধু বড় হাসপাতাল নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী হয় না। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, টিকা ব্যবস্থা, ওষুধ সরবরাহ এবং জনবল ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে হয়। এ স্বাস্থ্য সংকট এটিও দেখিয়েছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষতা ও দায়িত্বে অবহেলার ফলে বিনা চিকিৎসায় শিশুরা মারা যাচ্ছে। এর জন্য কোনো জবাবদিহি নেই।

    আমাদের দেশে জনসংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্যকর্মী অনেক কম আছে। তাই ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু নিয়োগ দিলেই হবে না। এ স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং তাদের মধ্যে সেবার মানসিকতা থাকতে হবে।

    বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা হলো শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য। নতুন বাজেটে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। প্রথমত, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর না হলে বড় হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়তেই থাকবে। দ্বিতীয়ত, টিকা ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানো জরুরি। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ডিজিটাল গণকাঠামো, ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থা, টেলিমেডিসিন এবং রোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে।

    দেশে তীব্র বেকারত্ব চলছে। প্রতি বছর লাখো চাকরিপ্রত্যাশী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চাচ্ছেন। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ মুহূর্তে করণীয় কী? বাজেট কতটুকু সহায়তা করতে পারে?

    বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখন কর্মসংস্থান। জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো। এজন্য নীতির স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সহজ ব্যবসা পরিবেশ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং দক্ষ জনশক্তি জরুরি। দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা দিতে হবে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এ খাত। কিন্তু তারা সহজে ঋণ পায় না, প্রযুক্তি সহায়তা পায় না এবং বাজারে টিকে থাকতে সমস্যায় পড়ে। তৃতীয়ত, রফতানি বহুমুখীকরণ জরুরি।

    শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়বে। প্রযুক্তি, ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাত, চামড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি—এসব খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাজেট এখানে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কর প্রণোদনা, দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল, স্টার্টআপ সহায়তা এবং শ্রমঘন শিল্পে বিশেষ সুবিধা দেয়া যেতে পারে। শুধু প্রণোদনা দিলেই হবে না। তার সঠিক ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। সূত্র: বণিক বার্তা 

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    আমলাতান্ত্রিক ধীরগতিতে হারাচ্ছে ব্যবসার গতি—কাগজপত্রের জটিলতা চলবে কতদিন?

    মে 17, 2026
    ব্যাংক

    ৫০০ কোটি টাকার তহবিল জোগাড়ে নতুন রেকর্ড ব্র্যাক ব্যাংকের

    মে 17, 2026
    ব্যাংক

    একীভূত পাঁচ ব্যাংকে পুরোনো মালিক ফেরায় অনিশ্চয়তা

    মে 17, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.