দেশের অর্থনীতিকে বর্তমান চাপ ও স্থবিরতা থেকে বের করে আনতে বড় আকারের উন্নয়ন বাজেটকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে সরকার।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বড় বিনিয়োগের বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্যেই আগামী অর্থবছরের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী উন্নয়ন বাজেট নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিনিয়োগ ছাড়া প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব নয়। তাই সরকার বড় উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলেও তারা বিশ্বাস করে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে আসতে বড় পরিসরের বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে তিনি টিউবওয়েলের উদাহরণ দেন। তার ভাষায়, টিউবওয়েলের পানি কমে গেলে যেমন চাপ বাড়াতে পানি ঢালতে হয়, তেমনি অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতেও বড় বিনিয়োগ দরকার।
তিনি আরও বলেন, এই বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো কঠিন হবে। সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দৃঢ় নেতৃত্ব ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। যোগ্যতা পূরণ করলেই কেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। কোনো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে দায়ও নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে আলাদা ড্যাশবোর্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের হাতে থাকা প্রায় এক হাজার ৩০০ প্রকল্প পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছে। যেসব প্রকল্প অপ্রয়োজনীয়, অকার্যকর কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে হবে, সেগুলো বাতিল করা হবে। আংশিক বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও কার্যকারিতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নতুন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। সময় বাড়ানোর সুযোগ রাখা হবে না। সামাজিক খাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল হওয়া পুরোনো প্রকল্পের জায়গায় নতুন প্রকল্প নেওয়ার জন্য বিশেষ থোক বরাদ্দও রাখা হয়েছে।
তার ভাষায়, প্রতিটি প্রকল্পে অর্থের যথাযথ ব্যবহার, বিনিয়োগের বিপরীতে সুফল এবং কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও কম। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কারের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত করে রাজস্ব বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষায় আরও বিনিয়োগ করা হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য নতুন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদ ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

