আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে স্বর্ণের দাম। মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে মঙ্গলবার একদিনেই স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এতে দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারদর।
বিশ্ববাজারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৭৪ দশমিক ৪০ ডলারে। দিনের শুরুতে এটি ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। একই সময়ে জুন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে সরে গিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ ও বেশি মুনাফার খাতে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিত বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ আবার বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়।
কারণ স্বর্ণে বিনিয়োগ করলে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে বন্ড বা সুদভিত্তিক বিনিয়োগে আয় বাড়ে। ফলে উচ্চ সুদের সময়ে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বদলে বন্ডের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন।
এদিকে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ডলারের দাম বাড়লে অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বর্তমানে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটিও বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণ এখনো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে রাখছে।
তারা বলছেন, বর্তমান পতন মূলত স্বল্পমেয়াদি চাপের ফল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা আবারও বাড়তে পারে।
এদিকে শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। রুপার দাম প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে নেমে গেছে।
বাজার এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিনির্ধারণী সভার রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে। বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকা সেই রিপোর্ট থেকেই বোঝা যাবে, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কোন দিকে যেতে পারে। আর সেটিই পরবর্তী সময়ে স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

