আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।
গতকাল সোমবার (১৮ মে) নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কীভাবে সবচেয়ে কার্যকরভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতার কারণে বাজেটে চাপ রয়েছে। সে কারণে খরচ নিয়ন্ত্রণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তারপরও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারেক রহমান-এর দিকনির্দেশনায়। এ জন্য আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা:
পূর্ণ সুবিধা একবারে না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি-এর নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এটি তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের আলোচনা চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। এই ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।
দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি পেনশন খাতে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের জন্য সরকারের মোট ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান-এর নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। গ্রেড সংখ্যা আগের মতো ২০টিই থাকবে। নতুন কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯ দশমিক ৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক কর্মচারী, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির জন্য গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশ দেবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২১ মে বৈঠকে বসবে সংশ্লিষ্ট কমিটি।

