Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, জুলাই 27, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে?
    অর্থনীতি

    সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে?

    মনিরুজ্জামানজুন 2, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের চামড়া বাজারে আবারও দেখা দিয়েছে দীর্ঘদিনের সংকটের প্রতিফলন। কাঁচা চামড়ার দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সংগ্রহকারীদের বড় অংশ এবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই লাভের আশায় চামড়া কিনলেও শেষ পর্যন্ত বিক্রির সুযোগ না পেয়ে বিপাকে পড়েন।

    মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে, ক্রেতার অভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। ফলে কিছু ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে চামড়া রাস্তার পাশে ফেলে দেন, আবার কেউ কেউ মাটিচাপা দিয়ে তা নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর ধরে চলা অব্যবস্থাপনারই আরেকটি প্রকাশ।

    খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় এক দশক ধরে দেশের চামড়া শিল্প নানা সংকটে জর্জরিত। প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো দৃশ্যমান হয়নি। ফলে উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) গড়ে তুলতে না পারা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে পিছিয়ে আছে দেশের চামড়া শিল্প।

    এর প্রভাব শুধু পরিবেশগত নয়, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের। আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত না হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা ও ব্র্যান্ডের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে রপ্তানি সম্ভাবনাময় এই খাত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না।

    খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অবকাঠামোগত ও নীতিগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতেও ঈদকেন্দ্রিক চামড়া সংগ্রহ ও বিপণনে একই ধরনের অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে, যার ক্ষতি বহন করতে হবে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পুরো শিল্পখাতকেই।

    সম্ভাবনার পাহাড়, কিন্তু রপ্তানিতে স্থবিরতা:

    বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, সেই সম্ভাবনার বড় অংশ এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

    গত ১৬ মে সাভার চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনের সময় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের কাঁচা চামড়া থেকে উৎপাদিত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ এই খাতের সম্ভাবনার মাত্র শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। মন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা গেলে চামড়া উৎপাদন ও রপ্তানি ১২ থেকে ১৪ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    তবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য ভিন্ন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। এক দশক পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই খাতে কার্যত উল্লেখযোগ্য কোনো প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি।

    একই সময়ে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় থেকে খাতটি ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছেছে। তুলনামূলক এই চিত্র চামড়া শিল্পের স্থবিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। শুধু স্থবিরতাই নয়, কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে চামড়া রপ্তানি থেকে আয় ছিল ২২৬ মিলিয়ন ডলার। পরবর্তী পাঁচ বছরে তা বেড়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় পতন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় নেমে আসে ১৮৩ মিলিয়ন ডলারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১২৮ মিলিয়ন ডলারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে চামড়া রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৯৭ মিলিয়ন ডলারের। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা।

    ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. নাসির খান বলেন, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিয়ে উদ্বেগ থাকায় অনেক আন্তর্জাতিক ক্রেতা বাংলাদেশি কাঁচা চামড়া থেকে তৈরি পণ্য কিনতে আগ্রহ দেখান না। এর ফলে রপ্তানিকারকেরাও স্থানীয় চামড়ার জন্য প্রত্যাশিত বাজার পাচ্ছেন না।

    তিনি বলেন, একসময় ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের চামড়া খাত প্রায় একই অবস্থানে ছিল। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্প ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতির কারণে ভিয়েতনাম আজ বিশ্বের অন্যতম বড় জুতো রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের জুতো রপ্তানি করেছে, যা বাংলাদেশের পুরো চামড়া খাতের রপ্তানি আয়ের তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ বেশি।

    নাসির খানের মতে, এই ব্যবধান একদিনে তৈরি হয়নি। পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ভিয়েতনাম এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনও মৌলিক কিছু সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, কার্যকর বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় শিল্প অবকাঠামো ছাড়া ট্যানারি শিল্পনগরী গড়ে তোলার ফলেই আজকের এই সংকট তৈরি হয়েছে।

    তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের মূল্যবান কাঁচা চামড়া যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে এটি শত শত কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হতে পারত। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দেয়নি।

    সরকারি দাম কাগজে, বাজারে মিলল না তার ছায়াও:

    এবারের ঈদুল আজহায় কাঁচা চামড়ার জন্য সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করেছিল, বাস্তব বাজারে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা গেছে। সরকারি দর ও মাঠপর্যায়ের দামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, এতিমখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

    চলতি বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। গত বছরের তুলনায় এ দর ২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়া সাধারণত ১৮ থেকে ২০ বর্গফুট এবং বড় গরুর চামড়া ২৪ থেকে ২৬ বর্গফুট হয়ে থাকে।

    সে হিসাবে সরকারের নির্ধারিত সর্বোচ্চ দর অনুযায়ী মাঝারি মানের একটি লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। বড় আকারের চামড়ার ক্ষেত্রে এই মূল্য দাঁড়ানোর কথা ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে।

    কিন্তু বাজারে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আকার ও মানভেদে অধিকাংশ কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায়। দেশের অন্যতম বৃহৎ চামড়া বাণিজ্যকেন্দ্র পোস্তার ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, তাঁরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার বেশি দামে চামড়া কেনেননি।

    এ পরিস্থিতিতে মৌসুমি সংগ্রহকারী, এতিমখানা ও মাদ্রাসা পরিচালনাকারীদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিক ও আড়তদারেরা সরকার ঘোষিত মূল্য কার্যত মানেননি। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত দামের পরিবর্তে বাজারে অনেক কম দামে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে।

    অন্যদিকে আড়তদারেরা কম দামে চামড়া কেনার বিষয়টি স্বীকার করলেও এর পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, চামড়া সংরক্ষণ, পরিবহন এবং শ্রমিক ব্যয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধি ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বাজারমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।

    এ. কে. লেদারের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রুবেল হোসেন বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত আমদানিনির্ভর রাসায়নিকের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাঁর দাবি, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর এসব উপকরণের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজারদর একই হারে না বাড়ায় উৎপাদকরা বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে পারছেন না।

    তিনি আরও বলেন, বিদেশি ক্রেতারা অতিরিক্ত মূল্য দিতে রাজি না হওয়ায় সরকার নির্ধারিত দামে কাঁচা চামড়া কেনা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। রুবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ঘাটতি থাকায় ইউরোপের অনেক ক্রেতা বাংলাদেশি চামড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে দেশের চামড়া খাত এখন অনেকাংশে চীনা ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. নাসির খান বলেন, দুই দশক আগে একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো। অথচ বর্তমানে একই ধরনের চামড়ার দাম অনেক ক্ষেত্রে ৫০০ টাকারও নিচে নেমে এসেছে।

    তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাকলে বর্তমানে একটি মাঝারি চামড়ার মূল্য ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে সীমিতসংখ্যক বিদেশি ক্রেতা। নাসির খানের দাবি, বর্তমানে মূলত চীনা ক্রেতারাই চামড়া কিনছেন এবং তাঁরা প্রতি বর্গফুটের জন্য ৩০ থেকে ৪০ টাকার বেশি মূল্য দিতে আগ্রহী নন, যা সরকারি দামের প্রায় অর্ধেক।

    চামড়ার দাম নিয়ে দোষারোপের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ:

    কাঁচা চামড়ার বাজারে ধস নামার পেছনে কার দায় বেশি, তা নিয়ে খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ট্যানারি মালিক, আড়তদার এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, তবে সংকটের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি।

    এ. কে. লেদারের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রুবেল হোসেনের দাবি, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কম দামে চামড়া কিনে আড়তদারেরা তা সংরক্ষণ করেন এবং পরে অনেক বেশি দামে ট্যানারিগুলোর কাছে বিক্রি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে একটি চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও আড়তদারেরা সংরক্ষিত চামড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করে থাকেন।

    তবে এই হিসাব মানতে নারাজ বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. টিপু সুলতান। তিনি বলেন, একটি চামড়া সংরক্ষণ, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ব্যয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাঁর মতে, ৪০০ টাকায় কেনা একটি চামড়া ট্যানারিতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মোট খরচ প্রায় ৮০০ টাকায় দাঁড়ায়। ফলে আড়তদারদের ওপর অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়। টিপু সুলতান আরও বলেন, ঈদের সময় অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়াই চামড়া কেনাবেচায় যুক্ত হন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্ত বা মানহীন চামড়া বাজারে চলে আসে, যা পরবর্তী ধাপে বিক্রয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সমস্যা তৈরি করে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ আড়তদারদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং মূল্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্রে আড়তদারদের ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, সারা বছর একই আড়তদারেরা ট্যানারিগুলোর কাছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করেন এবং তখন কোনো ধরনের অভিযোগ শোনা যায় না। কিন্তু ঈদ মৌসুম এলেই একই বিষয় নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসে।

    সাখাওয়াত উল্লাহর মতে, বাজার সংকটের আরেকটি বড় কারণ হলো কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় বিপুল পরিমাণ চামড়া একসঙ্গে বাজারে আসলে সেই চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা খাতটির নেই। এদিকে শিল্পসংশ্লিষ্টরা চামড়া সংরক্ষণের বিষয়টিকে সংকট মোকাবিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, পশু জবাইয়ের ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ ব্যবহার না করলে এর গুণগত মান স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    ঈদের পরদিন সাভার চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনের সময় বাণিজ্যমন্ত্রীও একই বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা সংরক্ষিত চামড়া কিনতে আগ্রহী হলেও পচনধরা চামড়ার কোনো বাজার নেই। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লবণ ব্যবহার করে চামড়া সংরক্ষণ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রীর ভাষায়, লবণযুক্ত চামড়ার বাজারমূল্য রয়েছে, কিন্তু যথাসময়ে সংরক্ষণ না করা হলে সেই চামড়ার স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্রেতারাও তা গ্রহণ করতে চান না।

    সাভারে স্থানান্তরের পরই কি গভীর হয়েছে চামড়া খাতের সংকট?

    চামড়া শিল্পের বর্তমান সংকটের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি স্থানান্তর প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করছেন খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা। তাঁদের দাবি, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্পূর্ণ না করেই স্থানান্তর কার্যক্রম শেষ করা হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো বহন করছে পুরো শিল্পখাত।

    ২০১৭ সালের এপ্রিলে সরকার হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর ফলে মালিকেরা বাধ্য হয়ে কারখানা সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করেন। তবে শিল্প মালিকদের অভিযোগ, নতুন শিল্পনগরীর অবকাঠামো তখনও পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।

    বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মিত কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই ব্যর্থতার কারণেই বাংলাদেশ এখনো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনেক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে বাধার মুখে রয়েছে।

    শিল্পমালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানান্তরের পর উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, ব্যবসায়িক সক্ষমতা কমেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়েছে। ফলে একদিকে যেমন ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও দুর্বল হয়েছে। পরিবেশগত সমস্যার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। একসময় হাজারীবাগ এলাকার দূষণের জন্য বুড়িগঙ্গা নদী আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে একই ধরনের উদ্বেগ ধলেশ্বরী নদীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।

    চামড়া খাতের সংকট নিরসনে বাজারের পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, ঈদুল আজহার সময় দেশে যে বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করা হয়, তা প্রক্রিয়াজাত বা বিপণনের জন্য বর্তমান অভ্যন্তরীণ বাজার পর্যাপ্ত নয়।

    তিনি মনে করেন, সারা বছর লবণযুক্ত ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে নতুন গতি তৈরি হতে পারে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে, প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে এবং চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিদ্যমান ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মোয়াজ্জেমের মতে, বাজার উন্মুক্ত থাকলে নতুন উদ্যোক্তারা এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। একই সঙ্গে গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাও উন্নত হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশগুলো কাঁচা, লবণযুক্ত এবং ওয়েট-ব্লু চামড়া আমদানি করে থাকে। ফলে এসব দেশের চাহিদাকে লক্ষ্য করে রপ্তানি নীতি শিথিল করা হলে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি হতে পারে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়তে পারে।

    চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো প্রচলিত ও পুরোনো পদ্ধতির ওপরই নির্ভর করা হচ্ছে। ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের পরামর্শ অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বারবার সামনে এসেছে। তাঁর মতে, চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিদ্যমান পদ্ধতি কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। তাই ভবিষ্যতে এই খাতকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি বাজার কাঠামোতেও সংস্কার প্রয়োজন।

    ঈদুল আজহার পর সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে চামড়া সংগ্রহ ও বিপণন কার্যক্রমে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার চিত্র উঠে এসেছে। সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, চামড়া পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা পুরো খাতের দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে।

    নিয়ম অনুযায়ী ঈদের পর প্রথম সাত দিন ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীমুখী চামড়া পরিবহনের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার কথা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে জানা গেছে, বাস্তবে বিপুল পরিমাণ চামড়া ঈদের পরপরই সাভার শিল্পনগরীতে পৌঁছে যায়।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন দুপুর থেকে পরদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত সময়ে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৪৯টি কোরবানির পশুর চামড়া প্রবেশ করে। আগের বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫২টি।

    চামড়া প্রবেশের সামগ্রিক হিসাবেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। গত বছর ঈদের প্রথম তিন দিনে শিল্পনগরীতে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৭টি চামড়া এসেছিল। অথচ চলতি বছর ৩০ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রবেশ করা চামড়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫টি।

    শিল্পসংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, এত অল্প সময়ে চামড়ার এই অস্বাভাবিক প্রবাহ ইঙ্গিত দেয় যে ঢাকার বাইরের বহু এলাকার চামড়া যথাযথ সংরক্ষণ ছাড়াই সরাসরি শিল্পনগরীতে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের ধারণা, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লবণ ব্যবহার না করেই দ্রুত বাজারে সরবরাহের চেষ্টা করা হয়েছে।

    মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীদের অভিযোগও সংকটের গভীরতা তুলে ধরে। তাঁদের ভাষ্য, দূরদূরান্ত থেকে ট্রাকে করে চামড়া নিয়ে আসার পর আড়তদারদের প্রস্তাবিত কম দাম মেনে নেওয়া ছাড়া অনেকের আর কোনো বিকল্প ছিল না। কারণ একবার শিল্পনগরীতে পৌঁছানোর পর চামড়া ফেরত নেওয়ার মতো অতিরিক্ত পরিবহন ব্যবস্থা বা শ্রমিক সহায়তা তাঁদের হাতে ছিল না। ফলে দরকষাকষির সুযোগ না পেয়েই অনেক ব্যবসায়ী লোকসান গুনে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

    তবে ডিপো মালিকেরা এই পরিস্থিতির জন্য ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বাজারে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের অভাব, প্রয়োজনীয় সরকারি অর্থায়ন না পাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে বকেয়া অর্থ সময়মতো পরিশোধ না হওয়াই বর্তমান অস্থিরতার প্রধান কারণ। তাঁদের দাবি, আর্থিক প্রবাহ স্বাভাবিক না থাকায় বাজারে প্রত্যাশিত লেনদেন সম্ভব হয়নি, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চামড়ার দামের ওপর।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    এসডিজি বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন: সেলিম রায়হান

    জুলাই 27, 2026
    অর্থনীতি

    এনবিআরের ক্ষমতার বলয় থেকে রাজস্ব ঘাটতির গল্প

    জুলাই 27, 2026
    অর্থনীতি

    চিপ থেকে সমৃদ্ধি: প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?

    জুলাই 27, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.