বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হলে দুই দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাত সমানভাবে উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমই) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
তিনি বলেছেন, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শুধু বাণিজ্যের পরিধিই বাড়বে না, বরং স্থানীয় শিল্পের টেকসই বিকাশও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে অনুষ্ঠিত ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিকেএমই সভাপতি।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ যতই হোক না কেন, দেশের স্থানীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্পিনিং মিল এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের শিল্পগুলোকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। তার মতে, অভ্যন্তরীণ শিল্পভিত্তি দুর্বল হলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিল্পখাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সরকার কখনো কখনো স্থলপথে আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত নেয়। এসব পদক্ষেপ মূলত দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়।
তবে শিল্প সুরক্ষার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, স্থানীয় শিল্পকে রক্ষা করতে গিয়ে যেন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দুই দেশের উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করলে শিল্পখাতের উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং উভয় দেশই এর সুফল পাবে।

