আগামী বাজেটে আমদানি করা নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির টায়ারের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট টায়ারের মোট করভার বর্তমান ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশে পৌঁছাবে। এমন সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টায়ার আমদানিকারক ও ডিলাররা।
প্রস্তাবিত এই শুল্ক পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়ে সম্প্রতি এনবিআরের কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম টায়ার টিউব ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ। একই দাবিতে শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেও পৃথক একটি চিঠি পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে হালকা বাণিজ্যিক ট্রাক ও বাসে ব্যবহৃত টায়ারের ক্ষেত্রে। দেশের অধিকাংশ লোকাল বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার, ট্রাক এবং কৃষি ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনে এই ধরনের টায়ার ব্যবহার করা হয়। ফলে শুল্ক বৃদ্ধি কার্যকর হলে পরিবহন, কৃষি, নির্মাণ ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত টায়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
আমদানিকারকদের হিসাবে, বাণিজ্যিক যানবাহন ও পিকআপ ভ্যানে ব্যবহৃত প্রতিটি টায়ারের দাম তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব ভোক্তাদের ওপরই পড়বে, যা বিদ্যমান মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আমদানিকারকদের দাবি, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার যুক্তিতে এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব আনা হলেও দেশের মোট টায়ারের চাহিদার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ বাজারের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এখনও আমদানিনির্ভর। তাই সীমিত উৎপাদন সক্ষমতার একটি খাতকে সুবিধা দিতে বৃহৎ আমদানিনির্ভর বাজারের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপকে তারা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।
তাদের মতে, দেশে যাত্রীবাহী গাড়ির কিছু টায়ার উৎপাদিত হলেও ভারী যানবাহন ও বিশেষায়িত টায়ারের ক্ষেত্রে এখনও বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বেশি। এই বাস্তবতায় অল্প কয়েকটি স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য পুরো বাজারে অতিরিক্ত কর চাপানো যৌক্তিক নয়।
চট্টগ্রাম টায়ার টিউব ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপের সভাপতি মাইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, টায়ারের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে উৎপাদন, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংগঠনটির সদস্য এবং ইফফাত ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউর রহমান জানান, এইচএস কোড ৪০১১.২০.১০-এর আওতায় বাণিজ্যিক যানবাহনের টায়ারের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে এই শ্রেণির টায়ারের করভার এক ধাপে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়ে যাবে, যা তার মতে অত্যন্ত অযৌক্তিক।
এমআরএফ টায়ারের এই পরিবেশক আরও বলেন, টায়ারের মূল্য বাড়লে পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। এর ধারাবাহিক প্রভাব কৃষিপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য এবং শিল্পকারখানার কাঁচামালের দামের ওপর পড়বে। শেষ পর্যন্ত এর আর্থিক চাপ বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকেই।
বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ট্রাকভাড়া আগেই বেড়েছে। এর সঙ্গে টায়ারের দামও বাড়লে পণ্যের বাজারে আরও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।

