বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার দেশ-বিদেশে আইনি কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়ম এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। যারা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে বা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলার আওতায় দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশে থাকা অর্থ ও সম্পদ দেশে ফেরাতে ইতোমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে দুটি মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (এমএলএটি) চূড়ান্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলার মধ্যে ছয়টি বড় ঋণগ্রহীতা গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে দেওয়ানি মামলা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টির বেশি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে।
বিকল্প অর্থায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কে শুধু বাংলাদেশে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষ তহবিল গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব তহবিল চালু হলে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আইএমএফ থেকে শূন্য হাতে ফেরেনি। তবে আগের সরকারের সময় গৃহীত কিছু কর্মসূচির শর্ত দেশের স্বার্থ ও জনগণের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় সরকার নিজ উদ্যোগে সেসব কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা শক্তিশালী করবে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

