রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আইনজীবীদের মতে, এই মামলায় জামিন পাওয়ার ফলে তার মুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। খায়রুল হকের পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সাঈদ আহমেদ রাজা এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
এর আগে গত ২৩ মে পৃথক সাতটি মামলায় জামিন লাভের পর তাকে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত ওই আদেশ দিয়েছিলেন। এরও আগে, ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল এই মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে যাত্রাবাড়ী পদচারী সেতুর নিচে অবস্থান করেন খোয়াইব। পরে সকাল প্রায় ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সদস্যরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে খোয়াইব গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাকে আটটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

