চলতি অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া শুল্ক আটকে থাকায় নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮২৩ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা।
কাস্টমসের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৪৭১ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা।
এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ছিল ৭২ হাজার ৫০২ দশমিক ৪১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব বেড়েছে ৮ হাজার ৯৬৮ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা।
অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য গতি দেখা গেছে। এ মাসে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৫ দশমিক ১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক অগ্রগতি থাকলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বকেয়া শুল্ক আদায় করা না যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি।
২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মোট বকেয়া শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ২৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা বকেয়া আদায় করায় মোট বকেয়ার পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার কাছে। প্রতিষ্ঠানটির বকেয়ার পরিমাণ ২১ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। তবে বিদায়ী অর্থবছরে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো বকেয়া আদায় করা যায়নি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। এছাড়া বিলম্বিত পরিশোধ ব্যবস্থার আওতায় ৪২৩ কোটি টাকা আদায় হওয়ায় এ খাতের বকেয়া কমে ৬৯ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
রাজস্ব আদায়ের এই তথ্য নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র শরীফ আল আমিন বলেন, কাস্টমসের রাজস্ব মূলত চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল। আমদানি না বাড়লে রাজস্বও বাড়ানো কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও গত অর্থবছরে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বকেয়া শুল্ক আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও যোগাযোগের মাধ্যমে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে!

