পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফল হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ছয় হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা বন্দরের আর্থিক সক্ষমতায় নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থবছরজুড়ে পরিচালন কার্যক্রম, আর্থিক অর্জন এবং ডিজিটাল আধুনিকায়নের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এবং শতভাগ কাগজবিহীন স্মার্ট বন্দর গড়ে তোলার উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বন্দরটি।
চলতি অর্থবছরে এই দপ্তরের অধীনে সরাসরি রাজস্ব আদায় ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৭ দশমিক ৪১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আয়কর হিসেবে ৯৬০ দশমিক ০৪ কোটি টাকা জমা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব ব্যয় ১৮ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় বড় পরিসরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন কার্যক্রমে পুনর্বিনিয়োগের জন্য আয়কর পরবর্তী তিন হাজার ৭১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার উদ্বৃত্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের চাহিদা মোকাবিলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো, কনটেইনার এবং জাহাজ পরিচালনার তিনটি প্রধান সূচকেই রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এ সময়ে মোট ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউ। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ টনে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া অর্থবছরজুড়ে মোট চার হাজার ৩৩৬টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। পরিচালন দক্ষতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেও উন্নতি এসেছে। কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে। ফলে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে, যা শিপিং লাইনের পরিচালন ব্যয় হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের সম্পূর্ণ কাগজবিহীন স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে একাধিক ডিজিটাল উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিসহ বন্দরের সব গেটে সেন্ট্রাল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইন ই-গেট পাস চালু হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড এবং বন্দরের টিওএসের মধ্যে নিরাপদ ভিপিএন সংযোগের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে ম্যানুয়াল যোগাযোগের প্রয়োজন কমেছে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে কার্যকর অগ্রগতি এসেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডার আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ও পরিচালনগত সাফল্য বন্দরের আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। তিনি বলেন, জাহাজের অবস্থানকাল কমানো, রাজস্ব উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি এবং শতভাগ কাগজবিহীন কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে অংশীজনদের জন্য আরও লাভজনক ও নির্ভরযোগ্য একটি ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

