বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করতে নতুন ভিসানীতি অনুমোদন দিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা আগের নীতিমালায় পরিবর্তন এনে আরও সহজ, আধুনিক ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে বিদেশি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, দক্ষ পেশাজীবী এবং পর্যটকদের বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও সহজ হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভিসানীতি-২০২৬-এর অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, নীতিমালাটি আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে খসড়াটি আরও পরিমার্জন করবে।
তিনি বলেন, এতদিন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে মূলত পারস্পরিকতার নীতি অনুসরণ করা হতো। অর্থাৎ অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশকে যে ধরনের বা যত মেয়াদের ভিসা দিত, বাংলাদেশও প্রায় একইভাবে তাদের নাগরিকদের ভিসা প্রদান করত। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শুধু সেই নীতির ওপর নির্ভর না করে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সরকারের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এখন অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দেশের নিজস্ব পুঁজির পাশাপাশি বাইরের বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, নতুন নীতিমালায় মোট ৩৪টি ভিসা শ্রেণি রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ভিসা ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত করা হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালার চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, পর্যটন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যুক্ত থাকবে। জাতীয় নিরাপত্তা, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং পর্যটনের স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ যুক্ত করে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ভিসানীতির মাধ্যমে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া, দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, কেবল ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করাই যথেষ্ট নয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য দ্রুত সেবা, স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ-সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত অগ্রগতি হলে নতুন ভিসানীতি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।

