বাংলাদেশের জ্বালানি ও সার আমদানির জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থায়নের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ইসলামি বাণিজ্য অর্থায়ন করপোরেশন (আইটিএফসি)। নতুন অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য অর্থায়ন দেবে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় অনেক বেশি।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন দিয়েছিল সংস্থাটি। এবার সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। এই অর্থ মূলত জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সার আমদানির কাজে ব্যয় হবে।
এ লক্ষ্যে গত সোমবার সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ সরকার ও আইটিএফসির মধ্যে একটি অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং আইটিএফসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদীব ইউসুফ আল আমা স্বাক্ষর করেন।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোট অর্থায়নের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য রাখা হয়েছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ কোটি ডলার। অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় করা হবে সার আমদানিতে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আমদানি ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নতুন অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য অর্থায়নের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই অর্থায়নের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ১২ থেকে ১৮ মাস। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সুরক্ষিত ওভারনাইট অর্থায়ন হার (এসওএফআর)-এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৬৫ থেকে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে।

