জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ সফলভাবে বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন ব্যবসায়ী ও কর বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাজেট ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়। এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দক্ষ প্রশাসনিক সক্ষমতা।
গতকাল রোববার রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬: ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে এসব মতামত তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অ্যাড ইন্টারিম আনজা কারস্টেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং সদস্য (ভ্যাট নীতি) মো. আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. রোকনুজ্জামান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া। তিনি বলেন, চলতি বাজেটে প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আদায়ের জন্য উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর বাস্তবায়ন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে। এর ফলে নতুন বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্নেহাশীষ বড়ুয়ার মতে, উচ্চ সুদের হার এবং সীমিত করদাতার ভিত্তির কারণে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে না। তাই করের আওতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে মো. রোকনুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও সহজ ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং উদ্ভাবননির্ভর শিল্পায়ন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা, ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের গতি আরও বাড়বে।
তাদের মতে, বর্তমান দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।

