২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আয় বৃদ্ধির দিক থেকে দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি। সম্প্রতি প্রকাশিত ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির নিট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই রাজস্ব ছিল ৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।
একই সময়ে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের রাজস্ব বৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে রেনাটা পিএলসির বিক্রি বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের কিছু বেশি। ফলে রাজস্ব বৃদ্ধির হারে বেক্সিমকো ফার্মা প্রতিযোগীদের ছাড়িয়ে গেছে।
ব্র্যাক ইপিএলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার। স্থানীয় বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ছিল তুলনামূলক ধীর, যা মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পণ্য উৎপাদনের খরচ বছরে মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। রাজস্ব বৃদ্ধির তুলনায় ব্যয় কম বাড়ায় পরিচালন দক্ষতা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে জট কাটিয়ে সম্প্রতি বেক্সিমকো ফার্মা তাদের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমতি পাওয়ার পর বিশেষ পরিচালনা পর্ষদ সভা ডেকে প্রতিষ্ঠানটি বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন ও প্রকাশ করে।
প্রকাশিত নথির মধ্যে ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী, নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন। এর মাধ্যমে প্রায় ১৫ মাসের প্রতিবেদন প্রকাশের জটিলতা দূর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গত ২৬ জুন থেকে কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটারি রিসিপ্টের লেনদেনের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে পুনরায় লেনদেন চালুর অনুমতি দেয়।
এর আগে উচ্চ আদালতে চলমান আইনি কার্যক্রমের কারণে পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় কোম্পানিটি সময়মতো আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন ও প্রকাশ করতে পারেনি। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বেক্সিমকো ফার্মার কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৯৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
ব্র্যাক ইপিএলের মতে, শক্তিশালী রাজস্ব প্রবৃদ্ধি, প্রত্যক্ষ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা এবং ঋণের চাপ কমানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই কোম্পানিটির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেক্সিমকো ফার্মা ১০ দশমিক ৭ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।

