২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর, ভ্যাট (মূসক) এবং আমদানি শুল্ক—রাজস্বের তিনটি প্রধান উৎসের কোনোটিতেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সরকার। ফলে সামগ্রিক রাজস্ব আদায় লক্ষ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশে।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আয়কর খাতে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে। এ খাতে ১ লাখ ৮৬ হাজার ১১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
ভ্যাট বা মূসক খাতে একই পরিমাণ অর্থাৎ ১ লাখ ৮৬ হাজার ১১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যের ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, আমদানি শুল্ক খাতে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। এ খাতে অর্জনের হার ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
করজাল সম্প্রসারণে সরকারের নতুন পরিকল্পনা:
সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, করহার না বাড়িয়ে করজাল বিস্তৃত করার মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি করতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। কর ফাঁকি কমানো এবং ন্যায্য করব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের বাজার অংশীদারিত্ব বা মার্কেট শেয়ার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তার ভাষ্য, যেসব প্রতিষ্ঠানের বাজারে অংশীদারিত্ব বেশি, তাদের কর পরিশোধের দায়ও তুলনামূলক বেশি হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
করদাতাদের হয়রানি কমাতে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট হারে বা ফ্ল্যাট রেট করব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে যারা করের আওতার বাইরে রয়েছেন, তারা তাদের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ কর পরিশোধ করতে পারবেন।
এই ব্যবস্থায় কর পরিশোধকারীদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে না। নির্ধারিত কর জমা দিয়ে রসিদ সংরক্ষণ করলেই তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হবে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নতুন করদাতাকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে তাদের নিয়মিত কর কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

