২০২৬-২৭ অর্থবছর শুরু হলেও এখনো অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাননি করদাতারা। নতুন অর্থবছরের জন্য ই-রিটার্ন ব্যবস্থা হালনাগাদ না হওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রিটার্ন দাখিলের নতুন উইন্ডো চালু হয়নি। ফলে বাজেটে ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের কর-সুবিধা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেক করদাতা।
নতুন বাজেটে ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে করের ওপর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু জুলাই মাসের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও অনলাইন সিস্টেমে নতুন অর্থবছরের রিটার্ন গ্রহণ শুরু না হওয়ায় এ সুবিধা বাস্তবে কাজে লাগাতে পারছেন না করদাতারা।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে আয়কর সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এসব পরিবর্তন ই-রিটার্ন সফটওয়্যারে সংযোজন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলমান থাকায় সিস্টেম চালু করতে বিলম্ব হচ্ছে। এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জুন মাসে বাজেট পাস হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট দল প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছিল। তবে নতুন বিধানগুলো সঠিকভাবে সংযুক্ত করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, জানান, বাজেটে অন্তর্ভুক্ত নতুন করব্যবস্থা ও বিধান সার্ভারে যুক্ত করার পর তা বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা করা হচ্ছে। অসম্পূর্ণ অবস্থায় সিস্টেম চালু করলে করদাতারা ভুল হিসাব বা প্রযুক্তিগত জটিলতায় পড়তে পারেন। এ কারণে নির্ভুলতা নিশ্চিত করেই ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্ম উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নতুন বাজেটের সব পরিবর্তন সফটওয়্যারে সমন্বয় করতে সময় লাগছে। করদাতারা যেন রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে এনবিআরের ই-রিটার্ন ওয়েবসাইট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রিটার্ন দাখিলের অপশন এখনো যুক্ত হয়নি। তবে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রিটার্ন জমা দেওয়ার সুবিধা চালু রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন করহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া পুরো বছরজুড়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য কর-প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের কর ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কাটা করই চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচিত হতো। এখন থেকে সেই করকে অগ্রিম আয়কর হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় প্রযোজ্য করস্লাব অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
এবারের বাজেটে মোটরযানের করহার বৃদ্ধি, ইটভাটার অগ্রিম আয়কর বাড়ানো, বিলাসবহুল গাড়ির অগ্রিম আয়কর দ্বিগুণ করা, রপ্তানি প্রণোদনার কর কাঠামোয় পরিবর্তন, বৈদ্যুতিক গাড়িতে কর-সুবিধা এবং স্বর্ণকে মূলধন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন খান বলেন, নতুন বাজেটে আয়কর ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাই প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে ই-রিটার্ন চালু না হওয়া পর্যন্ত করদাতাদের জন্য কাগজে রিটার্ন জমা দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা রাখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ করবর্ষে অনলাইন ও অফলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৪৬ লাখ ৫০ হাজার করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। চলতি অর্থবছরে নতুন করনীতি কার্যকর হওয়ায় ই-রিটার্ন ব্যবস্থা দ্রুত চালু করার অপেক্ষায় রয়েছেন করদাতারা।

