Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, আগস্ট 18, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বন্দর থেকে কারখানা—জলাবদ্ধতার আঘাতে বিপর্যস্ত পুরো অর্থনীতি
    অর্থনীতি

    বন্দর থেকে কারখানা—জলাবদ্ধতার আঘাতে বিপর্যস্ত পুরো অর্থনীতি

    মনিরুজ্জামানজুলাই 13, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতা বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো সংকট নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণ, খাল-নালা দখল ও ভরাট, দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অপর্যাপ্ত নগর পরিকল্পনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একসময় জলাবদ্ধতাকে কেবল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি হিসেবে দেখা হলেও এখন এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, জলাবদ্ধতার ক্ষতি শুধু রাস্তাঘাটে পানি জমে থাকা বা মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে দেশের বন্দর কার্যক্রম, শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ব্যবস্থা, সরবরাহ চেইন, কৃষি, শ্রমবাজার, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর। ফলে কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।

    সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র, পাইকারি বাজার ও শিল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ায় পণ্য পরিবহন, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাড়তি ব্যয় ও সময়ের ক্ষতি তৈরি হয়েছে।

    শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলেও জলাবদ্ধতার কারণে আমদানি পণ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, জলাবদ্ধতা এখন আর শুধু কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, জলাধার ও খাল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন করা না হলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

    বন্দর থেমে গেলে থমকে যায় অর্থনীতির গতি:

    বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আমদানি পণ্য এই বন্দর দিয়েই দেশে প্রবেশ করে। একইভাবে রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যও চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়।

    ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে সামান্য বিঘ্নও এর প্রভাব ছড়িয়ে দেয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে বন্দরের সঙ্গে যুক্ত সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা জলাবদ্ধতার কারণে অচল হয়ে পড়লে এর প্রভাব পড়ে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়াসহ দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে।

    জলাবদ্ধতায় পণ্যবাহী যান চলাচল ব্যাহত হলে আটকে যায় কনটেইনার পরিবহন। বন্দরে তৈরি হয় পণ্যের জট, ধীর হয়ে পড়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানিকারকদের বাড়তি খরচ ও জরিমানার মুখে পড়তে হয়। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ও নতুন অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রভাব দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ছে। কৃষি, মৎস্য, শিল্প, বাণিজ্য ও পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছে। চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার কারণে প্রাথমিকভাবে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে এবং দেশের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় এর প্রভাব শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ে।

    ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, জলাবদ্ধতার প্রভাব দেশের অন্যান্য খাতেও দৃশ্যমান। হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার আগেই বন্যার পানিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের আয় কমেছে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    তার মতে, জলাবদ্ধতাকে এখন আর শুধু মৌসুমি সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল ও জলাধার সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং দেশের ব্যবসায়িক সক্ষমতাও চাপে পড়তে পারে।

    দেশের রফতানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এই খাতের কার্যক্রম নির্ভর করে নির্ধারিত সময়ের ওপর। কারখানায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সময়মতো না পৌঁছালে উৎপাদন ব্যাহত হয়। আবার উৎপাদিত পণ্য বন্দরে পৌঁছাতে দেরি হলে নির্ধারিত জাহাজ ধরতে না পারার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে বাড়ে পরিবহন খরচ, গুদাম ভাড়া, ডেমারেজ এবং অন্যান্য আর্থিক চাপ।

    তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, জলাবদ্ধতা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এর প্রভাব দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে পড়ছে। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আমদানি ও রফতানির পণ্য ক্ষতির মুখে পড়ছে।

    তিনি বলেন, বিশেষ করে বন্দর এলাকায় পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা ও ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পণ্য নষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি কমাতে বন্দরে নিরাপদ সংরক্ষণাগার (সেফ শেড) এবং আধুনিক পণ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ সময়ে পণ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

    খাতুনগঞ্জের ক্ষতি দেখায় জলাবদ্ধতার অর্থনৈতিক মূল্য:

    চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আসাদগঞ্জ ও কোরবানীগঞ্জ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতির চিত্র দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে চট্টগ্রাম চেম্বারের সহযোগিতায় পরিকল্পনা কমিশনের ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ গবেষণায় বলা হয়, এক দশকে শুধু জলাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

    গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি ক্ষতির শিকার হয়েছে। জলাবদ্ধতার পানিতে নষ্ট হয়েছে খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন আমদানি পণ্য। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, দৃশ্যমান ক্ষতির বাইরেও রয়েছে বড় ধরনের পরোক্ষ ক্ষতি। দীর্ঘ সময় দোকান ও গুদাম বন্ধ থাকা, ক্রেতা হারানো, ব্যবসার স্বাভাবিক গতি কমে যাওয়া এবং বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আর্থিক প্রভাব আরও ব্যাপক।

    বেনাপোলেও একই সংকটের পুনরাবৃত্তি:

    জলাবদ্ধতার সমস্যা শুধু সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক নয়। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলেও টানা বর্ষণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন শেডে পানি জমে কোটি টাকার আমদানি পণ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে বারবার একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গুদামে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় বাড়তি সংরক্ষণ খরচ ও ডেমারেজ দিতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোতে জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতে উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রফতানি সক্ষমতার ওপর এর চাপ আরও বাড়বে।

    জলাবদ্ধতায় থমকে যায় শিল্প, বাড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিধি:

    জলাবদ্ধতার প্রভাব শুধু রাস্তাঘাট বা জনজীবনের ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর বড় ধাক্কা লাগে শিল্প উৎপাদনেও। নিরাপত্তার কারণে অনেক শিল্পাঞ্চলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হয়। কারখানার নিচতলায় পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বৈদ্যুতিক মিটার, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন সরঞ্জাম। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয় উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখতে।

    উৎপাদন বন্ধ হওয়ার অর্থ শুধু উদ্যোক্তার আর্থিক ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শ্রমিকের আয় কমে যাওয়া এবং দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব। দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হয়।

    সবচেয়ে বড় অদৃশ্য ক্ষতি কর্মঘণ্টার অপচয়:

    জলাবদ্ধতার অর্থনৈতিক ক্ষতির একটি বড় অংশ সরাসরি চোখে দেখা যায় না। নগরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের কারণে অনেক মানুষ নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন না। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া মানে দেশের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া। এই ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব করা কঠিন হলেও এর আর্থিক প্রভাব কয়েকশ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

    বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান কিছুটা সময় ক্ষতি সামাল দিতে পারলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে তা কঠিন। চট্টগ্রামের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, আগ্রাবাদ ও হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকান, রেস্তোরাঁ, ওয়ার্কশপ ও ছোট কারখানায় পানি ঢুকে ব্যবসা ব্যাহত হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর পণ্য ও মূলধন নষ্ট হয়েছে। আবার অনেকে কয়েক দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেননি। ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য পরিবার আর্থিক চাপে পড়েছে।

    জলাবদ্ধতা শুধু শহরকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; এর প্রভাব পড়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে ধান, শাকসবজি, পাটসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে, আয় কমে এবং ঋণের চাপ বৃদ্ধি পায়। ফসলের ক্ষতি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শহর ও গ্রামের অর্থনীতি একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়ে।

    জলাবদ্ধতার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে জনস্বাস্থ্যে। জমে থাকা দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, টাইফয়েড ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অসুস্থতার কারণে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যায়, বাড়ে চিকিৎসা ব্যয়। এতে পরিবারের সঞ্চয়ের ওপর চাপ পড়ে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা তৈরি হয়।

    দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে সড়ক, সেতু, কালভার্ট, ড্রেন ও ফুটপাত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অবকাঠামো মেরামতে সরকার ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি বছর বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। বারবার ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারে অর্থ ব্যয় হলে নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগও কমে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর চাপ তৈরি হয়।

    কোনো দেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকি বিবেচনা করেন। কোনো শহরে নিয়মিত বৃষ্টিতেই যদি শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জলাবদ্ধতা এখন শুধু নগর ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

    হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরও কেন কাটছে না জলাবদ্ধতা?

    চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া হয়েছে হাজার কোটি টাকার একাধিক প্রকল্প। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দাবি, বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

    কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই নগরের প্রধান সড়ক, বাণিজ্যিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক অঞ্চল পানির নিচে চলে যাচ্ছে। এতে শুধু নগরবাসীর ভোগান্তিই বাড়ছে না, প্রশ্ন উঠছে প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা, বাস্তবায়ন সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও।

    বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের প্রভাব এখন সরাসরি অর্থনীতিতে পড়ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতেও এর প্রমাণ দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে বন্দরে আমদানি করা কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানায় পানি ঢুকেছে। সড়কে পানি জমে যাওয়ায় শ্রমিকদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে, আবার অনেক শ্রমিকের বাসাবাড়িতেও পানি উঠেছে। এর ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা উভয়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সুযোগ, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুললে ক্ষতির মাত্রা অনেক কমানো সম্ভব।

    তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্পে পরিবেশগত মান ও টেকসই উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার অন্যতম কারণও ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমানো। তার মতে, জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টির পাশাপাশি অতিরিক্ত তাপমাত্রাও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে উৎপাদনশীলতায়।

    অর্থাৎ পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব এখন সরাসরি শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান। মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার, শিল্প খাত, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশের পক্ষে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

    অর্থনীতির নীরব সংকট:

    জলাবদ্ধতার ক্ষতি শুধু পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তা বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়ে রফতানি, উৎপাদন, ব্যবসায়িক ব্যয়, শ্রমঘণ্টা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর।

    দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে প্রতি বর্ষাতেই একই চিত্র ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। পানি জমবে, বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হবে, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং এর আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে পুরো অর্থনীতিকে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, পরিবেশবিজ্ঞানী ও জলবায়ু গবেষক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, জলাবদ্ধতা এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের সংকটে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়ছে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে। ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, সাধারণত জুলাই ও আগস্টে দেশে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। তবে এবারের পরিস্থিতির মূল সমস্যা শুধু বৃষ্টির পরিমাণ নয়, বরং পানি দ্রুত নিষ্কাশনের অক্ষমতা। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিতেও নগর এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

    তিনি বলেন, খাল, বিল ও প্রাকৃতিক জলাধার দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই পানি আটকে যাচ্ছে এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

    তার মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য নগরের খাল পুনরুদ্ধার, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ ফিরিয়ে আনা জরুরি। পানি বাধাহীনভাবে নদীতে যেতে পারলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে নগরের পরিবেশ উন্নত হবে এবং শহর আরও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাণিজ্য

    অর্থবছর বদলের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়, নতুন নিয়ম ২০২৮-২৯ থেকে

    আগস্ট 17, 2026
    অর্থনীতি

    বদলাচ্ছে জিডিপির হিসাব: অর্থনীতির ছোট-বড় সব খাত এবার আসছে নজরে

    আগস্ট 17, 2026
    বিশ্লেষণ

    ‘পাইলট জোন’: ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আড়ালে দক্ষিণ লেবাননের বাস্তবতা

    আগস্ট 17, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.