Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, জুলাই 17, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বাংলাদেশে চীনের আধিপত্য—আশীর্বাদ নাকি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ?
    অর্থনীতি

    বাংলাদেশে চীনের আধিপত্য—আশীর্বাদ নাকি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ?

    মনিরুজ্জামানজুলাই 16, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। একসময় যে যুক্তরাষ্ট্র দেশের সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকারী (এফডিআই) ছিল, বর্তমানে সেই অবস্থানে উঠে এসেছে চীন। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চীনের উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

    এই পরিবর্তন কেবল বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি, শিল্পায়নের ধারা এবং উন্নয়ন অর্থায়নের কাঠামোয় নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন। চীনের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

    তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, একটি মাত্র দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উভয় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে বিনিয়োগের উৎস যত বৈচিত্র্যময় হবে, অর্থনীতির ভিত্তিও তত বেশি স্থিতিশীল হবে।

    তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চীনের বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং বিভিন্ন বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা। এমন বহুমুখী অংশীদারিত্বই দীর্ঘমেয়াদে দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

    ২০১৬ সালের পর বদলে যায় বৈদেশিক বিনিয়োগের চিত্র:

    বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমানভাবে বাড়তে শুরু করে ২০১৬ সালের পর। ওই বছরের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। সফরকালে বাংলাদেশে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। একই সময়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এ যুক্ত হয়, যা পরবর্তী সময়ে বড় অবকাঠামো ও শিল্প প্রকল্পে সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করে।

    এর আগে বাংলাদেশের শীর্ষ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে চীনের অবস্থান ছিল অনেক নিচে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশের মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) স্টকে চীনের অংশ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ। সে সময় দেশটির অবস্থান ছিল ১৬তম। তবে পরবর্তী কয়েক বছরে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যায়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সেতু, রেলপথ, টানেল, বন্দর এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নসহ একের পর এক বড় প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন বাড়তে থাকে। পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিল্প স্থাপনে চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আগ্রহও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে চীনের মোট এফডিআই স্টক ছিল ২৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে প্রায় ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ মাত্র নয় বছরে চীনের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ সাত গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই চীন থেকে বাংলাদেশে নিট ৩২১ মিলিয়ন ডলারের নতুন এফডিআই এসেছে। এর ফলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিদেশি বিনিয়োগ উৎস হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে দেশটি।

    অন্যদিকে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মোট এফডিআই স্টকের প্রায় ২২ শতাংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। ২০২৫ সালের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট এফডিআই স্টক প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার থেকে কমে প্রায় ১০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। ভারতের বিনিয়োগ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সেই প্রবৃদ্ধি আগের মতো শক্তিশালী নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণেও শীর্ষে চীন:

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণেও সবচেয়ে বড় অংশীদারে পরিণত হয়েছে চীন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশের দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি বৈদেশিক ঋণে চীনের অংশ ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে সেই অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশে। একই সময়ে চীন থেকে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৪২২ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

    অন্যদিকে, একসময় দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা থাকা যুক্তরাষ্ট্র এখন চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে। মোট বেসরকারি বৈদেশিক ঋণে দেশটির অংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশে। আর ভারত বর্তমানে শীর্ষ ১০ ঋণদাতা দেশের তালিকায়ও নেই।

    মেগা প্রকল্পে বাড়ছে চীনের অর্থায়ন, বদলে যাচ্ছে উন্নয়নের চিত্র:

    বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে গত কয়েক বছরে চীনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশের যোগাযোগ, জ্বালানি ও নগর উন্নয়নসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চীনা সহায়তা এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প— এসব বড় উদ্যোগে চীনের অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ রয়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব প্রকল্প শুধু অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি সক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

    পোশাক খাত ছাড়িয়ে উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে নজর:

    চীনা বিনিয়োগের ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে বিনিয়োগের প্রধান ক্ষেত্র ছিল তৈরি পোশাক শিল্প। এখন সেই পরিধি বিস্তৃত হয়ে উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চ মূল্যসংযোজন খাতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাওয়া নতুন বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে চীনা মালিকানাধীন অথবা চীন-সংশ্লিষ্ট যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে।

    ড্রোন, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, লজিস্টিকস, ফুটওয়্যার, আধুনিক প্যাকেজিং এবং হাইড্রোপনিক কৃষির মতো নতুন খাতে এসব বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্পায়নে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    চীনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার কারণ কী:

    ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক কারণ চীনের প্রতি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। তুলনামূলক কম দামে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি পাওয়া, বড় অঙ্কের অর্থায়নের সহজ প্রাপ্যতা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মতো কঠোর নীতিগত শর্তের অনুপস্থিতি— এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ইউরোপীয় যন্ত্রপাতির পরিবর্তে চীনা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি বেছে নিচ্ছেন। কারণ তুলনামূলক কম খরচে একই ধরনের মানসম্পন্ন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি সহজে বড় অঙ্কের অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগও চীনকে আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ অংশীদারে পরিণত করেছে।

    নতুন সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলেও গুরুত্ব পাচ্ছে চীন:

    নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা-বেইজিং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে বাণিজ্য, শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

    এদিকে মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল, আনোয়ারার চীনা শিল্পাঞ্চল এবং কেরানীগঞ্জে হান্ডা গ্রুপের ২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানিয়েছে, চীনের ১২টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রায় ৯২১ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

    চীনের বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশে নতুন বিদেশি ইক্যুইটি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে। ফলে বিনিয়োগের গতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের অর্জিত মুনাফার একটি অংশ পুনঃবিনিয়োগ করছে। কিন্তু নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারী বড় পরিসরে এখনও দেশে আসছেন না। তাদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা, বৈদেশিক মুদ্রা সহজে প্রত্যাবাসনের সুযোগ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে।

    নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজের মতে, চীনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণ ভবিষ্যতে আর্থিক চাপের কারণ হতে পারে।

    তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর কিংবা পাকিস্তানের কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, ঋণের শর্তে স্বচ্ছতা এবং অর্থায়নের উৎস বৈচিত্র্যময় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সাবেক গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বিদেশি ঋণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে তার মতে, দ্বিপক্ষীয় উৎসের পরিবর্তে বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।

    তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশ—যেমন চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা জাপান—থেকে ঋণ নিলে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন নীতিগত ও বাণিজ্যিক শর্ত যুক্ত থাকে, যা ভবিষ্যতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিপরীতে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর অর্থায়নে সাধারণত শর্ত অধিক স্বচ্ছ থাকে এবং ঝুঁকিও তুলনামূলক কম।

    ড. জায়েদ বখতের মতে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন দীর্ঘমেয়াদে অধিক নির্ভরযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণে রাজনৈতিক বা দ্বিপক্ষীয় চাপের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নও সহজ হয়।

    টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব:

    গত এক দশকে বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো চীনের দ্রুত উত্থান। একসময় শীর্ষ বিনিয়োগকারী দেশগুলোর তালিকায় না থাকা দেশটি এখন প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ, বেসরকারি বৈদেশিক ঋণ, অবকাঠামো অর্থায়ন এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হবে চীনের বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা। তাদের মতে, বহুমুখী বিনিয়োগ ও অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী হবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশে নামতে পারে: আইএমএফ

    জুলাই 16, 2026
    বাণিজ্য

    বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে গঠিত হচ্ছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

    জুলাই 16, 2026
    বাণিজ্য

    সরকারি ক্রয়ে এআই আনছে টিসিবি, বদলাবে কেনাকাটার প্রক্রিয়া

    জুলাই 16, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram
    ‘হাম ব্যবস্থাপনায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ কি পর্যাপ্ত ছিল, আপনি কি মনে করেন?

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.