মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন নীতিমালায় এখন থেকে কোনো ফান্ড হিসাব বছর শেষে মুনাফা করলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে সেই অর্থ ফান্ডের মধ্যেই রেখে দেওয়ার সুযোগ পাবেন ট্রাস্টিরা।
বিএসইসি গত ১৫ জুলাই এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমের হিসাব বছর শেষ হওয়ার পর নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে নিট মুনাফা দেখা গেলে, সংশ্লিষ্ট হিসাব বিবরণী অনুমোদনের সময় ট্রাস্টিরা নগদ লভ্যাংশ বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
তবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাস্টিদের নিশ্চিত হতে হবে যে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় লাভের অর্থ ফান্ডে সংরক্ষণ করাই বেশি উপযোগী। অর্থাৎ, সিকিউরিটিজ বা শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণের চেয়ে ওই অর্থ ফান্ডে রেখে দিলে যদি ফান্ডের নিট সম্পদমূল্য বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীরা বেশি উপকৃত হন, তাহলে নগদ লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
নতুন নির্দেশনায় অবশ্য এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করেছে বিএসইসি। কোনো ফান্ড নগদ লভ্যাংশ বিতরণ না করলে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর টীকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে—লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট স্কিমের নিট সম্পদমূল্য কতটা বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ নীতির ফলে মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনায় ট্রাস্টিরা কিছুটা বেশি স্বাধীনতা পাবেন। একই সঙ্গে ফান্ডের সম্পদ বাড়ানো ও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষায় অর্থ ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

