ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি, অস্ত্রের মজুত এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর আপাতত বড় ধরনের নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন করে বড় আকারের অভিযান শুরু হলে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা, সামরিক ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ক্ষেত্রে শুধু আক্রমণ চালানো নয়, নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আপাতত আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও আশঙ্কা রয়েছে, সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হলে ইরান পাল্টা হামলার মাত্রা বাড়াতে পারে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ ছাড়া নতুন সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের বাজার এবং শরণার্থী পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধের পক্ষে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন তৈরি করতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বিভিন্ন জনমত জরিপের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আধুনিক সময়ের অন্যান্য মার্কিন সামরিক অভিযানের তুলনায় ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন শুরু থেকেই তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
একটি জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৯৩ দিন পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিনি।
অন্যদিকে আরেকটি জরিপে ৪০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার যুদ্ধকে সমর্থন করলেও ৫৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।
আরও একটি সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ পরিচালনার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ২৯ শতাংশে। একই জরিপে ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো যুদ্ধ পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে পারেননি ট্রাম্প। বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমর্থন কমেছে।
জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ছিল ৪০ শতাংশ, যা পরে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে আসে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করা হলেও এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে সামরিক বিকল্প পুরোপুরি বাতিল করেছে। পরিস্থিতি, নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে ভবিষ্যতে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হচ্ছে সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখা, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে আনা।

