Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, জুলাই 31, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » গ্যাসের ঘাটতিতে শিল্প খাত কতটা বিপর্যয়ের মুখে?
    অর্থনীতি

    গ্যাসের ঘাটতিতে শিল্প খাত কতটা বিপর্যয়ের মুখে?

    মনিরুজ্জামানজুলাই 30, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোর কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো রপ্তানি পণ্য প্রস্তুত করতে গিয়ে বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।

    কারখানা চালু রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে। আর সেই জেনারেটরের জন্য ডিজেল কিনতে হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেলের জন্য অতিরিক্ত ১০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে কারখানা মালিকদের।

    শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন শুধু উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে না, বরং পুরো শিল্প ব্যবস্থাপনাকে চাপে ফেলছে। কম গ্যাসের চাপ এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক কারখানা স্বাভাবিক সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না।

    আশুলিয়ার একটি রপ্তানিমুখী পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানার উদ্যোক্তা জানান, কয়েক বছর ধরে গ্যাস সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন তারা। এখন বিদ্যুতের সমস্যাও যোগ হয়েছে। জেনারেটর চালু রাখতে বাধ্য হয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে দীর্ঘদিন কারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ৩ লাখ স্পিন্ডল সক্ষমতার একটি স্পিনিং মিল গ্যাস সংকটে প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। কারখানাটির মালিক জানান, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন গ্যাস বাবদ খরচ হতো প্রায় ২০ লাখ টাকা, সেখানে এখন শুধু ডিজেল কিনতেই ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা। শুধু এই একটি কারখানা নয়, আশুলিয়া, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের উদ্যোক্তারা একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

    শিল্প মালিকদের ভাষ্য, অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কারখানাগুলো সক্ষমতার অনেক নিচে উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। তুলনামূলকভাবে যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে, সেসব এলাকার কিছু কারখানা এখনো স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখতে পারছে।

    শিল্প নেতারা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর চাপের মধ্যেই নতুন করে জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করছে।

    উৎপাদন কমেছে ২০ থেকে ৫০ শতাংশে:

    শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসনির্ভর অনেক কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ২০ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। এক মাস আগেও এসব কারখানা প্রায় ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছিল। কিছু উৎপাদন ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন শিল্প এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।

    চলমান গ্যাস সংকটের বিষয়টি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে তুলে ধরেছে। সংগঠনটি দ্রুত সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিটিএমএ। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আবারও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, এর আগে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি সমাধান করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। তবে উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট চলতে থাকলে শুধু উৎপাদন নয়, দেশের রপ্তানি বাজারও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকটের দিকে এখন গভীর নজর রাখছেন বিদেশি ক্রেতারা। উৎপাদন পরিস্থিতি কতদিন স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না— এসব বিষয়ে তারা দেশের রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য নিচ্ছেন। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এরই মধ্যে কিছু ক্রেতা অর্ডারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বাংলাদেশ থেকে দেওয়া অর্ডারের একটি অংশ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, গ্যাস সংকটের কারণে রপ্তানি আদেশ হারানোর ঘটনা ঘটছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, একবার এসব অর্ডার অন্য দেশে চলে গেলে তা আবার ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে।

    বিটিএমএর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, একজন ইউরোপীয় ক্রেতা গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য দেশে কিছু অর্ডার স্থানান্তরের বিষয়ে ই-মেইলে জানিয়েছে। শিল্প নেতাদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশের বড় একটি অংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমনকি মোট রপ্তানি আদেশের প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত হারানোর আশঙ্কাও করছেন তারা।

    দেশের অন্যতম বড় গ্যাস ব্যবহারকারী টেক্সটাইল শিল্প এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ থাকা এ খাতের অনেক কারখানাই এখন স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখতে পারছে না।

    মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করেও কারখানাটি মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে। তিনি বলেন, সংকট দীর্ঘ হলে শ্রমিকদের বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

    মোশাররফ জানান, পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে এখন পর্যন্ত গ্রুপের অন্য ব্যবসার অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এভাবে আর কতদিন চালানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    আড়াইহাজারের একটি স্পিনিং মিলের মালিক জানান, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ এবং ডিজেল জেনারেটর একসঙ্গে ব্যবহার করেও তাদের কারখানা মাত্র ২০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। তার দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

    সাভারের আশুলিয়ার লিটল স্টার স্পিনিং মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, তাদের কারখানায় অনুমোদিত গ্যাসের চাপ ১০ পিএসআই হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ০.৫ থেকে ১.৫ পিএসআই। তিনি বলেন, ইউপিএস, বিদ্যুৎ এবং সৌরবিদ্যুতের সহায়তা নিয়েও কারখানাটি মাত্র ২৫ শতাংশ সক্ষমতায় চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।

    খোরশেদ আলম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চিন্তা হচ্ছে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে শুধু উৎপাদন নয়, দেশের রপ্তানি খাতও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

    গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু টেক্সটাইল খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশের সিরামিক, চামড়া, ইস্পাত ও ওষুধ শিল্পেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কম গ্যাস সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমেছে, কোথাও কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কার্যক্রম।

    বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের ৭০টি সদস্য কারখানার মধ্যে ২৫টি ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। সংগঠনটির সভাপতি এবং মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সিরামিক শিল্প এখন অত্যন্ত সংকটময় অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

    জ্বালানি সংকটের ধাক্কা লেগেছে চামড়া শিল্পেও। এবিএস ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, বিকল্পভাবে গ্যাসের ব্যবস্থা করেও উৎপাদন ধরে রাখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগে তার কারখানার মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৭ থেকে ৮ লাখ বর্গফুট। বর্তমানে তা কমে দেড় লাখ বর্গফুটের নিচে নেমে এসেছে।

    ইমাম হোসেন বলেন, হাতে থাকা রপ্তানি আদেশও সময়মতো প্রস্তুত করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে পণ্য সরবরাহে দেরি হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে। কেউ কেউ তাও পাচ্ছেন না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়বে।

    গ্যাস সংকটের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে ইস্পাত শিল্পও। খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪০টি স্বয়ংক্রিয় ইস্পাত কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার বেশির ভাগই নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। উচ্চচাপের গ্যাস লাইনে থাকা বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে কম চাপের গ্যাস লাইনে থাকা অনেক ছোট কারখানায় সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী জানান, ইস্পাত কারখানার যন্ত্রপাতি নিয়মিত চালু রাখতে হয়। একবার উৎপাদন বন্ধ হলে পুনরায় চালু করতে দীর্ঘ সময় লাগে। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক কারখানায় দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও দুই সপ্তাহ চললে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

    গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে ওষুধ শিল্পেও। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রায় ৩০০টি ওষুধ কারখানার অধিকাংশই নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানাকে দিনে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প মালিক সমিতির সেক্রেটারি ড. জাকির হোসেন বলেন, ২০২২ সাল থেকেই ওষুধ শিল্প গ্যাস সংকটে ভুগছে। বর্তমানে লোডশেডিং হলে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকছে না। তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সাধারণত ১০ পিএসআইয়ের বেশি গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে ঢাকার বাইরের শিল্প এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল এপিআই উৎপাদনে সমস্যা বেশি হচ্ছে। কারণ এ ধরনের উৎপাদনে যন্ত্রপাতি দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে হয়।

    সরকার আশা করছে, আগামী দিনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হতে পারে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে।

    তবে শিল্প মালিক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সংকট কাটার সম্ভাবনা কম। তাদের মতে, নতুন গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত শিল্প খাতে ঘাটতি অব্যাহত থাকতে পারে। শিল্প প্রতিনিধিদের ভাষ্য, এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের সমাধান পাওয়া কঠিন।

    জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে সরকার দেশের তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন এবং কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ১৮ মাসের মধ্যে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

    তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এফএসআরইউ নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৮ মাসের মধ্যে একটি এফএসআরইউ স্থাপন করা কঠিন। সাধারণত একটি এলএনজি জাহাজকে এফএসআরইউতে রূপান্তর করতেই প্রায় দুই বছর সময় লাগে। আর নতুন করে নির্মাণ করতে গেলে সময় লাগতে পারে আরও বেশি। তার মতে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত উপকরণ আগে থেকেই প্রস্তুত থাকলে ১৮ মাসে কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে। তবে তা না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    বরিশালে ইলিশ আহরণ কাগজে তিন গুণ, বাস্তবে মিলছে না

    জুলাই 31, 2026
    অর্থনীতি

    দীর্ঘ সরবরাহ শৃঙ্খলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে ১১৬% পর্যন্ত: সিপিডি

    জুলাই 31, 2026
    অর্থনীতি

    বিনিয়োগ আস্থা ফেরাতে ঋণমানের ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি

    জুলাই 30, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.