দেশের রপ্তানি খাতে আবারও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২৯টি চালান রপ্তানি হিসেবে নথিভুক্ত হলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো পণ্যই নির্ধারিত ডিপো বা বন্দরে পৌঁছায়নি। এসব চালানের ঘোষিত মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা।
তদন্তে উঠে এসেছে, অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব কথিত রপ্তানি দেখানো হয়েছে। চালানগুলো ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকংয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে বলে কাগজপত্রে উল্লেখ ছিল। কিন্তু কাস্টমসের নথিতে রপ্তানি সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কারখানা থেকে কোনো পণ্যই সংশ্লিষ্ট ডিপো পর্যন্ত যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত মে মাসে ঈদুল আজহার ছুটির ঠিক আগে। নারায়ণগঞ্জের পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আরটি ফ্যাশন প্রায় ৮৪ লাখ টাকা মূল্যের পোশাক রপ্তানির ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পণ্য খালাস ও পরিবহনের দায়িত্বে থাকা এজেন্ট রপ্তানি ঘোষণা জমা দিলে তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন শুল্ক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় নথিভুক্ত হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, ঘোষিত পণ্য প্রথমে নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে যাওয়ার কথা। সেখানে কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্য পরীক্ষা, কাগজপত্র যাচাই ও মূল্যায়ন করার পর তা চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। এরপর জাহাজে পণ্য তোলার মাধ্যমে রপ্তানি সম্পন্ন হওয়ার কথা।
কিন্তু আরটি ফ্যাশনের ক্ষেত্রে কাগজে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্টদের যাচাই অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের কারখানা থেকে ঘোষিত পণ্য কোনো নির্ধারিত ডিপো বা চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। তারপরও চালানটি রপ্তানি হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যায়।
আরও গুরুতর বিষয় হলো, ওই চালানসহ কয়েকটি রপ্তানি নথিতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে।
কীভাবে ঘটছিল কথিত প্রতারণা
ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির ব্যবহার দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারকরা শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করত। এরপর কাগজপত্রে কাল্পনিক রপ্তানি দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হতো যে এসব কাঁচামাল দিয়ে পোশাক তৈরি করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।
রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো বন্ধন গুদাম ব্যবস্থার আওতায় শুল্ক ও কর না দিয়েই কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পায়। শর্ত হলো, এসব কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য শেষ পর্যন্ত বিদেশে রপ্তানি করতে হবে।
অভিযোগ সত্য হলে, স্থানীয় বাজারে কাঁচামাল বিক্রি করে দেওয়ার পর ভুয়া রপ্তানি দেখানোর মাধ্যমে একদিকে শুল্ক-কর পরিশোধ এড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি রপ্তানি প্রণোদনাও নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কোনো প্রতিষ্ঠানের বন্ধন সুবিধায় আনা পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি হলে পণ্যভেদে ৮৯ শতাংশ থেকে ১৫৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর দিতে হয়। ফলে ভুয়া রপ্তানির মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ এড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ২ শতাংশ রপ্তানি নগদ সহায়তা নেওয়ারও সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ।
একটি চালানের ওজনেই সন্দেহ
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সূত্রপাত ঘটে আরটি ফ্যাশনের একটি রপ্তানি ঘোষণাকে ঘিরে। ২৪ মে প্রতিষ্ঠানটি ২৩ হাজার ৯৯২ কেজি পোশাক রপ্তানির ঘোষণা দেয়।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের নজরে আসে অস্বাভাবিক একটি বিষয়। ঘোষণায় পণ্যের মোট ওজন এবং প্যাকেটসহ মোট ওজন একই দেখানো হয়েছিল। সাধারণত প্যাকেট বা মোড়কের ওজন যুক্ত হওয়ায় মোট ওজন ও পণ্যের নিট ওজন এক হওয়ার কথা নয়।
এতে সন্দেহ তৈরি হলে কর্মকর্তারা মূল মূল্যায়ন নথি দেখতে চান। কিন্তু এর মধ্যেই ঈদের ছুটি এবং জাহাজে পণ্য ওঠানোর নির্ধারিত সময়সীমার সুযোগ নেওয়া হয় বলে কর্মকর্তাদের অভিযোগ।
২৬ মে জাল সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে চালানটি খালাস হয়েছে বলে নথিতে দেখানো হয়। ওই নথিতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জান্নাতুল জান্নাত ইভি এবং আরও তিন কাস্টমস কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
জান্নাতুল জান্নাত ইভি জানান, আরটি ফ্যাশনের চালানসহ অন্তত চারটি চালানে তাঁর এবং অন্য কর্মকর্তাদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, জনবল সংকটের সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা পণ্য ওঠানোর শেষ দিনে কাগজপত্র জমা দিয়েছিল। ওই সময় কর্মকর্তাদের ওপর দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ থাকায় জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয় বলে তাঁর ধারণা।
সাত প্রতিষ্ঠানের নাম
এখন পর্যন্ত যে ২৯টি চালান যাচাই করে ভুয়া রপ্তানি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, সেগুলো অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আরটি ফ্যাশন, এইচবিএস অ্যাপারেলস, আল গালেব ফ্যাশন লিমিটেড, ডিলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেড, এনএম ফ্যাশন, এনএম নিট ফ্যাশন এবং ভূঁইয়া ফেব্রিকস লিমিটেড।
চালানগুলো তিনটি পণ্য খালাসকারী ও পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এগুলো হলো শাহজালাল এন্টারপ্রাইজ, আলফা টেক্সটাইল লিমিটেড এবং বাংলাদেশ শিপিং এজেন্সি।
পণ্য দেখানো হয়েছিল দুটি বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর মাধ্যমে। এগুলো হলো সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড এবং পোর্ট লিংক লজিস্টিকস সেন্টার লিমিটেড।
তবে কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, শনাক্ত হওয়া ২৯টি চালানই পুরো ঘটনার চিত্র নয়। আরও অনেক চালান একইভাবে রপ্তানি দেখানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুধু রপ্তানি জালিয়াতিই নয়, অর্থ পাচারের আশঙ্কাও
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কথিত ভুয়া রপ্তানির সঙ্গে আমদানি পণ্যের মূল্য অতিরঞ্জিত করে বিদেশে অর্থ পাঠানোর ঘটনাও যুক্ত থাকতে পারে।
তাদের ধারণা, আমদানিতে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বিদেশে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার পর কাল্পনিক রপ্তানি দেখিয়ে সেই অর্থের লেনদেনকে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এমন কর্মকাণ্ড অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একজন কর্মকর্তা মনে করছেন, এখন পর্যন্ত যে ঘটনা সামনে এসেছে, তা হয়তো আরও বড় একটি চক্রের সামান্য অংশ।
নতুন নয়, পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি
ভুয়া রপ্তানির অভিযোগ বাংলাদেশে নতুন নয়। ২০২১ সালের নভেম্বরেও চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে কাল্পনিক রপ্তানি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তী কাস্টমস তদন্তে অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শতাধিক ভুয়া চালানের মাধ্যমে রপ্তানি প্রণোদনা নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এর পর ২০২২ সালের এপ্রিলেও একই ধরনের অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়। ওই সময় অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান পাঁচ বছর ধরে ভুয়া চালানের মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা নেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসে।
এসব ঘটনার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তে রপ্তানিকারক, পণ্য খালাসকারী এজেন্ট এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়।
সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে চলতি বছরের জুলাইয়ে ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রপ্তানিকারক, পণ্য খালাসকারী এজেন্ট এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতারও তথ্য পাওয়া গেছে।
রপ্তানি পরিসংখ্যান নিয়েও নতুন প্রশ্ন
ভুয়া রপ্তানির এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন বাংলাদেশের রপ্তানি পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
২০২৪ সাল থেকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত রপ্তানি তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের মধ্যে ব্যবধান নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৫ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির এক গবেষণায় দেখা যায়, এই ব্যবধান দীর্ঘদিনের। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পার্থক্য ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আবার ব্যবধান বেড়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের তথ্যেও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য রয়েছে।
সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, মূল্যছাড়, ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা রপ্তানি আয় দেশে ফিরিয়ে আনতে দেরির কারণে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে কিছুটা পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধান অস্বাভাবিক এবং এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
তার মতে, একদিকে রপ্তানি তথ্যের দীর্ঘদিনের অসামঞ্জস্য, অন্যদিকে বারবার ভুয়া রপ্তানির ঘটনা—দুটো বিষয়ই দেশের রপ্তানি হিসাব ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। আগের ঘটনাগুলোতে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন অনিয়ম বারবার ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পুরো ব্যবস্থার নিরীক্ষা জরুরি
সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কাস্টমস কর্মকর্তা মনে করেন, শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন শুল্ক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার পুরো কাঠামোর ফরেনসিক নিরীক্ষা প্রয়োজন।
কারা কখন কোন নথিতে প্রবেশ করেছে, কোনো তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, পরিবর্তন হলে তার ইতিহাস কী এবং কোন পর্যায়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলে প্রকৃত চক্রকে শনাক্ত করা কঠিন হবে।
অর্থাৎ সমস্যাটি কেবল জাল স্বাক্ষর বা ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যদি রপ্তানিকারক, পণ্য খালাসকারী এজেন্ট, কাস্টমস কর্মকর্তা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশ জড়িত থাকে, তাহলে পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
অভিযোগ অস্বীকার করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান
অভিযোগ ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটির পক্ষ থেকে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। আরটি ফ্যাশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এইচবিএস অ্যাপারেলসের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আবুল খায়ের দাবি করেছেন, তাদের জমা দেওয়া নথি সঠিক বলেই তারা জানেন। অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং তারা যথাযথ জবাব দেবেন।
আল গালেব ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওয়াব আলীও কাল্পনিক রপ্তানি ঘোষণার কোনো উদ্দেশ্য থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে তা তিনি জানেন না এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক বিষয়টি দেখছেন।
ডিলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেডের পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করবেন বলে জানান। এনএম ফ্যাশন, এনএম নিট ফ্যাশন ও ভূঁইয়া ফেব্রিকসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তিনটি প্রতিষ্ঠানের চালান পরিচালনাকারী শাহজালাল এন্টারপ্রাইজের ইকবাল হোসেনও কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তদন্তেই মিলবে পুরো চিত্র
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর কমিশনার আবুল বাশার মো. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বছরের প্রথম ছয় মাসের রপ্তানি নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দুটি বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে ভুয়া রপ্তানির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্য ডিপোগুলোর বিষয়েও তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত জালিয়াতির পরিমাণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে ২৪ কোটি টাকার কথিত ভুয়া রপ্তানির ঘটনা এখন শুধু কয়েকটি চালানের অনিয়মের প্রশ্নে আটকে নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অপব্যবহার, সরকারি প্রণোদনা, কাস্টমস ব্যবস্থার নিরাপত্তা, সম্ভাব্য অর্থ পাচার এবং দেশের রপ্তানি পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এখন পর্যন্ত সামনে আসা ২৯টি চালানই কি পুরো চিত্র, নাকি এর পেছনে আরও বড় একটি চক্র কাজ করছে? সেই উত্তর নির্ভর করছে চলমান তদন্ত কতটা গভীরে যেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগের মতো শুধু কয়েকজনকে দায়ী না করে পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে পারে কি না তার ওপর।

