সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দেশে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এই বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়নে সহজ অনুমোদন প্রক্রিয়া, জমি বা লিজ সুবিধা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং ওয়ান-স্টপ সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ সিআইপি-বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্যরা এসব তথ্য জানান।
সংগঠনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং, ড্রাই ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং, ই-রেন্টাল সেবা, সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে করা হবে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে মূলধন সংকটে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চারটি শাখা চালু রাখার ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা চাইলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের অভ্যন্তরীণভাবে মালিক পরিবর্তনের সুযোগ নেই। ফলে অনেক কর্মী কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ ও আমিরাত সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সুযোগ পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা বাতিলের কারণে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশে আটকে পড়েছেন। তাদের অনেকেরই আমিরাতে চাকরি, ব্যবসা ও পরিবার রয়েছে। আটকে পড়া এসব প্রবাসীর তালিকা তৈরি করে আমিরাত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান তারা।
প্রবাসীদের সেবা আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে দূতাবাস ও কনস্যুলেটে দক্ষ, অভিজ্ঞ, অরাজনৈতিক ও প্রবাসীবান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সহায়তা নম্বর, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রতিটি জেলায় ‘প্রবাসী সহায়তা সেল’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে মোট ১৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা জটিলতা নিরসন, বিদেশ যাওয়ার আগে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, সবার জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, মৃত প্রবাসীর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা, জেলা পর্যায়ে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী বিমান ভাড়া নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের সম্পদ ও বিনিয়োগের সুরক্ষা, সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের সময় জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্সের উৎস নন; তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির অংশীদার, বিনিয়োগকারী এবং উন্নয়ন সহযোগী।
সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ রুবেল জানান, ইতোমধ্যে তারা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে প্রবাসীদের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। সরকারও প্রবাসীদের সমস্যাগুলোর বিষয়ে একমত পোষণ করেছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

