সরকারের বিনিয়োগবিষয়ক তিনটি পৃথক সংস্থাকে একীভূত করে গঠন করা হয়েছে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান, নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ—এই তিনটি সংস্থাকে একত্র করে তৈরি হয়েছে নতুন এই কাঠামো। গত বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
এই একীভূতকরণের প্রাথমিক অনুমোদন এসেছিল আরও আগেই। চলতি বছরের ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়ানো, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা প্রক্রিয়া সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই আইনি কাঠামো তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ এখন থেকে দেশের বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মূল সমন্বয়কারী ও উন্নয়নমূলক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এত দিন যেসব কাজ আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হতো—যেমন বিনিয়োগ প্রস্তাবের অনুমোদন, প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত অনুমতি, বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নের কাজ—সেসব এখন একটিমাত্র কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সেবাগুলো একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার এই উদ্যোগ প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। পৃথক পৃথক দপ্তরে ঘুরে সময় ও অর্থ ব্যয় করার পরিবর্তে একক জায়গা থেকে সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা দেশি উদ্যোক্তা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী—উভয়ের জন্যই স্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বাস্তবে এই একীভূতকরণ কতটা মসৃণভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে পুরোনো তিনটি সংস্থার জনবল, দায়িত্ব বণ্টন ও কার্যপদ্ধতি কীভাবে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, তার ওপর। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আসছে দিনগুলোতে নতুন কর্তৃপক্ষের কার্যপরিধি ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রকাশ পাবে, যা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার এই উদ্যোগের সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

