দেশের রাজধানীতে মেট্রোরেলের পঞ্চম লাইন নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫৩০ কোটি ডলার (৬৫ হাজার কোটি টাকা) অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রকল্পটির প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। কমিশনের প্রধান কবির আহমেদ জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হবে।
এই প্রকল্পটি ঢাকার পঞ্চম মেট্রোরেল লাইন হিসেবে নির্মিত হবে। গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনটি পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোকে যুক্ত করবে। রুটে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে গাবতলী, ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর, ঝিগাতলা, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নিউ মার্কেট, আজিমপুর, পলাশী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও, ধামরীপাড়া, সাইনবোর্ড, ভূইঘর ও জালকুড়ি। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইনও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বিস্তারিত নকশা তৈরিতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) ২৫ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে। সংস্থাটি সম্প্রতি বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে উপস্থাপন দিয়েছে। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)-ও এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রকল্পটির বিপুল অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সহ-অর্থায়নের ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে সরকার।
বিশ্বব্যাংকের এই সম্ভাব্য অর্থায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এক দশকের বেশি সময় আগে দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল সংস্থাটি। এমআরটি-২ প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর তারা আবারও দেশের গণপরিবহন খাতে ফিরছে। বর্তমানে জাপান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ডিএমটিসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় ছয়টি লাইনের ১৪০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হবে।

