Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, আগস্ট 31, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » জ্বালানি সংকটে শিল্পোৎপাদনে ধস, দিনে ক্ষতি ২,৩৮৭ কোটি টাকা
    অর্থনীতি

    জ্বালানি সংকটে শিল্পোৎপাদনে ধস, দিনে ক্ষতি ২,৩৮৭ কোটি টাকা

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 31, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট এখন আর সাময়িক কোনো সমস্যা নয়। গ্যাসের স্বল্পতা, বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয় একসঙ্গে চাপে ফেলেছে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা। এর প্রভাব পড়ছে বড় শিল্প থেকে শুরু করে ওষুধ, বস্ত্র, সিরামিক, চিনি পরিশোধন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং সেবা খাতেও।

    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সংকটে দেশের শিল্পকারখানাগুলো প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকার উৎপাদন হারাচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য ১ হাজার ৮৫৭টি আবেদন ঝুলে থাকায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ আটকে আছে। অর্থাৎ জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু বর্তমান উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে না, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণের পথও সংকুচিত করছে।

    ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চ্যালেঞ্জ : ব্যবসার পরিবেশের জন্য নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য উঠে আসে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের সহযোগিতায় বৈঠকটির আয়োজন করে।

    মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরান টি. রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক ফজলুল হক। আলোচনা পরিচালনা করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট হাসিব হাসান।

    মূল প্রবন্ধের তথ্য বলছে, গত চার বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বা সরবরাহে সামান্য অস্থিরতা তৈরি হলেও তার প্রভাব সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে এসে পড়ছে।

    দেশের শিল্প উৎপাদনেও এর প্রতিফলন স্পষ্ট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমেছে, যেখানে আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ উৎপাদন খাতের গতি কমে যাওয়ার পেছনে জ্বালানি সংকট এখন অন্যতম বড় বাধা হয়ে উঠেছে।

    শিল্পাঞ্চলগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি আরও কঠিন। নরসিংদীতে ৩০০টির বেশি কারখানা বন্ধ রয়েছে। জেলাটিতে প্রায় ৩ হাজার টেক্সটাইল ও ডাইং মিল রয়েছে, যেগুলো দেশের স্থানীয় কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ জোগান দেয়। গ্যাসের সংকট এতটাই তীব্র যে কিছু কারখানা বয়লার চালানোর জন্য কাঠ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

    গাজীপুরেও শিল্পকারখানাগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম গ্যাস পাচ্ছে। সেখানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৫৯০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে গ্যাসের চাপে কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ১৮ থেকে ২২ শতাংশ কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

    নারায়ণগঞ্জের চিত্রও উদ্বেগজনক। সেখানে প্রায় ১ হাজার ৮৫০টি কারখানার মধ্যে ৯০০টি বন্ধ রয়েছে। অর্থাৎ শিল্পকারখানার প্রায় ৪৯ শতাংশই উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। একটি শিল্পাঞ্চলের প্রায় অর্ধেক কারখানা যদি উৎপাদন করতে না পারে, তাহলে এর প্রভাব সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের বাইরে গিয়ে পুরো সরবরাহব্যবস্থায় পড়ার আশঙ্কা থাকে।

    ময়মনসিংহে ২৯৩টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। গ্যাস সংকটের কারণে সেখানে গড়ে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। হবিগঞ্জে ১৭১টি কারখানা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রতিদিনের উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

    চট্টগ্রামেও শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে। জাতীয় পর্যায়ে নিটওয়্যার ও ডাইং শিল্পের উৎপাদন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এর অর্থ হলো, জ্বালানি সংকট কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা একটি শিল্পের সমস্যা নয়; দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও উৎপাদন খাতে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

    এই সংকটের আরেকটি বড় দিক হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় ছোট উদ্যোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতা কম হওয়ায় বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জ্বালানি সংকটের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

    অন্যদিকে ওষুধ, টেক্সটাইল, সিরামিক ও চিনি পরিশোধনের মতো শিল্পও একই সমস্যার মুখোমুখি। এসব খাতে জ্বালানি শুধু উৎপাদনের একটি সহায়ক উপাদান নয়; অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রক্রিয়ার অপরিহার্য অংশ। ফলে প্রয়োজনীয় গ্যাস বা বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করেও সবসময় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় না।

    শিল্পের এই সংকট সরাসরি দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলছে। গ্যাসের চাপ কম থাকলে কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারে না। উৎপাদন কমে গেলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়। আবার গ্যাসের পরিবর্তে বেশি ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করলে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে তখন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হয়।

    বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করাও জরুরি। জ্বালানি সংকটের কারণে যদি একই সঙ্গে উৎপাদন কমে এবং ব্যয় বাড়ে, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্প দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়ে।

    বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জ্বালানি সংগ্রহের দুর্বলতার প্রতিফলন। তাঁর মতে, শিল্প ও রপ্তানিমুখী খাতকে সুরক্ষা দিতে একটি আলাদা শিল্প জ্বালানি নীতি প্রয়োজন। পাশাপাশি বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

    লাফার্জহোলসিমের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান শিল্প বিনিয়োগ রক্ষা করতে হলে ভবিষ্যতের জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে ১০ থেকে ২০ বছরের একটি সুস্পষ্ট জ্বালানি কৌশল তৈরি করা দরকার।

    এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায় নতুন গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালেই। ১ হাজার ৮৫৭টি আবেদন ঝুলে থাকার অর্থ হলো উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে চাইলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চয়তা না পাওয়ায় অনেক প্রকল্প এগোতে পারছে না। এতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ আটকে আছে।

    অর্থাৎ সংকটের প্রভাব দুটি জায়গায় একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। একদিকে চালু কারখানাগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে বা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগও আটকে থাকছে। ফলে শিল্প খাতে বর্তমান উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ—দুই ক্ষেত্রেই বাধা তৈরি হচ্ছে।

    বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঈনুল ইসলাম বলেন, সিরামিক শিল্পে গ্যাস শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না; উৎপাদনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ অনিশ্চিত থাকলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়বে।

    ইএসটেক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, জ্বালানি সংকটকে এখন শুধু সরবরাহের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ শিল্পনীতির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

    তিনি জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহের অগ্রাধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাস্তবসম্মত জ্বালানি মিশ্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    শিল্প খাতের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হলো জ্বালানি সরবরাহের পূর্বানুমান করতে না পারা। একটি কারখানা কখন পর্যাপ্ত গ্যাস পাবে বা কখন বিদ্যুৎ থাকবে না—এ বিষয়ে যদি উদ্যোক্তাদের নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকে, তাহলে উৎপাদন পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কাঁচামাল কেনা থেকে শুরু করে শ্রমিকের কর্মঘণ্টা, পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি—সব পরিকল্পনাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

    এ কারণে আলোচনায় রপ্তানিমুখী শিল্প ও বড় শিল্পাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোকে আগেভাগে উৎপাদন পরিকল্পনা করার সুযোগ দিতে বিশ্বাসযোগ্য লোডশেডিং সূচি প্রকাশের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    তবে শুধু তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ালেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাও দূর করতে হবে। গত চার বছরে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠে যাওয়া দেখাচ্ছে, দেশের শিল্প ও অর্থনীতি ক্রমেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

    এই নির্ভরতা কমাতে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান জ্বালানি অবকাঠামোর দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি বরাদ্দের একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করা জরুরি।

    কারণ শিল্পে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ শুধু প্রতিদিনের ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, রপ্তানি আয় কমতে পারে, ব্যাংকঋণ পরিশোধে চাপ তৈরি হতে পারে এবং নতুন বিনিয়োগের আগ্রহও কমে যেতে পারে।

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, শিল্প খাতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সাধারণত কয়েক বছরের হিসাব করে নেওয়া হয়। একজন উদ্যোক্তা যদি ভবিষ্যতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে নিশ্চিত না থাকেন, তাহলে বড় বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে যাবেন।

    তাই বর্তমানে বাংলাদেশের সামনে শুধু জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নেই; একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর শিল্পের আস্থা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তাঁরা আজ বিনিয়োগ করলে আগামী ১০ বা ২০ বছর পরও একটি পূর্বানুমানযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।

    শিল্প খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তাই একটি বড় সতর্কবার্তা দিচ্ছে। প্রতিদিন ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতি, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে থাকা দেখিয়ে দিচ্ছে যে জ্বালানি সংকট আর কেবল একটি অবকাঠামোগত সমস্যা নয়।

    এটি এখন বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল গ্রহণ করতে না পারলে এর আর্থিক ও শিল্পগত ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। আর সেই কারণেই ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে জোরালো বার্তা হলো—শুধু নতুন বিনিয়োগের কথা না ভেবে আগে বিদ্যমান শিল্পকে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি দিয়ে টিকিয়ে রাখতে হবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    কর কমেছে, তবু কমেনি দাম—ভোক্তার স্বস্তি কোথায়?

    আগস্ট 31, 2026
    অর্থনীতি

    প্রিপেইড মিটারের ‘গোস্ট বিল’ নিয়ে যা বলল ডিপিডিসি

    আগস্ট 31, 2026
    অর্থনীতি

    জাহাজভাঙা শিল্পে ১০০ গ্রিন ইয়ার্ডের লক্ষ্য, বর্তমানে আছে ৩১টি

    আগস্ট 31, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.