প্রিপেইড মিটারের রিচার্জে নানা ধরনের চার্জ কাটা, অস্বাভাবিক বিল বা ‘গোস্ট বিল’, আর রাতের অন্ধকারে বা ছুটির দিনে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, এসব নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে এগিয়ে এল ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। সংস্থাটি সোমবার (৩১ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিলের বিভিন্ন চার্জ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। একইসঙ্গে অস্বাভাবিক বিল বা বিচ্ছিন্নতার সমস্যায় ডিপিডিসির হটলাইন ১৬১১৬-এ ফোন করার অনুরোধ জানিয়েছে।
অনেক গ্রাহক জানতে চান, রিচার্জের সময় ডিমান্ড চার্জ কেন কাটা হয়। ডিপিডিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত লোডের বিপরীতে মাসে একবার এই চার্জ কাটা হয়। যদি কোনো মাসে রিচার্জ না করা হয়, তাহলে ওই মাসগুলোর ডিমান্ড চার্জ পরবর্তী রিচার্জের সময় কেটে নেওয়া হয়। এই চার্জ পোস্টপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ডিমান্ড চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা।
মিটার ভাড়ার ক্ষেত্রে ডিপিডিসি বলছে, গ্রাহকরা যদি নিজেদের প্রিপেইড মিটার কিনে বসান, তাহলে কোনো ভাড়া প্রযোজ্য নয়। তবে ডিপিডিসি-সরবরাহকৃত মিটারের জন্য সিঙ্গেল-ফেজে মাসিক ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজে ২৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এ ছাড়া প্রতিবার রিচার্জের সময় সরকার নির্ধারিত হারে ৫ শতাংশ ভ্যাট কাটা হয়। সম্প্রতি প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলেও, নতুন ট্যারিফে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বহাল থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ট্যারিফ পরিবর্তনের পর প্রথম রিচার্জে ২০০-২২০ ডিজিটের লম্বা টোকেন তৈরি হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ডিপিডিসি জানিয়েছে, মিটারের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন ক্যাটাগরির ট্যারিফ স্ল্যাবের কারণে এটি হয়। তবে এই লম্বা টোকেন শুধুমাত্র ট্যারিফ পরিবর্তনের পর প্রথম রিচার্জের জন্য প্রয়োজন। পরবর্তী রিচার্জগুলোয় স্বাভাবিক ২০ ডিজিটের টোকেনই কাজ করবে। লম্বা টোকেনের অসুবিধা দূর করতে ডিপিডিসি প্রিপেইড মিটার অনলাইনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে এএমআই প্রিপেইড মিটার বসানো হচ্ছে, যেগুলোতে টোকেনের প্রয়োজন নেই এবং বিকাশ, রকেটের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রিচার্জ করা যায়।
প্রিপেইড মিটারে প্রকৃত খরচের চেয়ে বেশি চার্জ কাটা বা তথাকথিত ‘গোস্ট বিল’ তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ডিপিডিসি। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত খুচরা ট্যারিফ অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ খরচ কাটা হয়। প্রযুক্তিগত ত্রুটি (যেমন কমন-নিউট্রাল সমস্যা) ছাড়া প্রিপেইড মিটারে অস্বাভাবিক বিল হওয়ার কথা নয়।
ডিপিডিসি জানিয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার্স’ (বিকেল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা) প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স শূন্য হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় না। এই সময় মিটার নেগেটিভ ব্যালেন্স নিয়েও বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যা পরবর্তী রিচার্জে সমন্বয় করা হয়। এ ছাড়া এনার্জি ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকরা ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স চালু করতে পারেন, যা জরুরি প্রয়োজনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। তবে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিলে ডিপিডিসি ৫০ টাকা সুদ হিসেবে কেটে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিপিডিসি জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অস্বাভাবিক কাটতি, বিলের অসঙ্গতি বা অপ্রত্যাশিত সময়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি ডিপিডিসির হটলাইন ১৬১১৬-এ ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মিটার নম্বর, গ্রাহক নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অভিযোগ জানালে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

