Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, আগস্ট 31, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বিয়ের পোশাকে বাড়ছে বাংলাদেশের সক্ষমতা, নজর এখন উচ্চমূল্যের বাজারে
    অর্থনীতি

    বিয়ের পোশাকে বাড়ছে বাংলাদেশের সক্ষমতা, নজর এখন উচ্চমূল্যের বাজারে

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 31, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে বড় পরিসরে পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য পরিচিত। তবে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই কম খরচে বেশি পোশাক তৈরির পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও নকশানির্ভর পণ্যের দিকে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে বিয়ের পোশাক।

    নারায়ণগঞ্জের আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে জার্মান বিনিয়োগে পরিচালিত ইউবিএফ ব্রাইডাল লিমিটেডের কার্যক্রম দেখাচ্ছে, প্রচলিত পোশাক কারখানার শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের জটিল ও নকশানির্ভর পোশাক তৈরির জন্য দক্ষ করে তোলা সম্ভব।

    সাড়ে তিন বছর আগে এই কারখানায় যোগ দেওয়ার সময় বেদানা আক্তারের কাছে বিয়ের গাউন ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি পণ্য। এর আগে তিনি প্রচলিত পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে দ্রুত ও বড় পরিমাণে পোশাক তৈরির অভিজ্ঞতা থাকলেও বিয়ের পোশাক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সূক্ষ্ম কাজের দক্ষতা তাঁর ছিল না।

    নতুন কর্মস্থলে তাঁকে শিখতে হয়েছে নরম ও স্পর্শকাতর কাপড় নিয়ে কাজ করা, সূক্ষ্ম সেলাই, নকশার নিখুঁত সংযোজন এবং পোশাকের শেষ ধাপের জটিল কাজগুলো। শুরুতে বিষয়গুলো কঠিন মনে হলেও ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন তিনি এই কাজেই দক্ষ হয়ে উঠেছেন।

    বেদানার অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। একসময় যেসব শ্রমিক মূলত বড় পরিমাণে সাধারণ পোশাক তৈরিতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁদের একটি অংশ এখন আরও জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং বেশি মূল্য সংযোজনকারী পোশাক তৈরির দক্ষতা অর্জন করছেন।

    ইউবিএফ ব্রাইডাল বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে ২০২২ সালে। এর আগে ২০২০ সালে কারখানাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি বিয়ের গাউন, সন্ধ্যার পোশাক, বিয়ের স্যুট, ঘোমটা, বিশেষ ধরনের জ্যাকেট, অন্তর্বস্ত্রজাতীয় পোশাক এবং বিয়ের বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সামগ্রী তৈরি করে।

    বাংলাদেশে তৈরি এসব পণ্য জার্মানিতে পাঠানো হয়। পরে বার্লিনে থাকা প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় গুদাম থেকে বিশ্বের প্রায় ৩৭টি দেশে সেগুলো সরবরাহ করা হয়।

    তবে কারখানা স্থাপনের পর সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি ছিল দক্ষ শ্রমিকের অভাব। সাধারণ পোশাক তৈরিতে অভিজ্ঞ শ্রমিক পাওয়া গেলেও বিয়ের পোশাকের মতো বিশেষায়িত পণ্য তৈরির অভিজ্ঞতা তাঁদের ছিল না।

    ইউবিএফ ব্রাইডালের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. রবিউল হক সিদ্দিকীর মতে, শুরুতে এই দক্ষতার ঘাটতি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বিয়ের পোশাক তৈরিতে অর্গানজা, নরম আস্তরণ, সূক্ষ্ম লেস, কারুকাজ ও বিভিন্ন ধরনের অলংকরণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়।

    শুধু শ্রমিক নয়, ব্যবস্থাপনা পর্যায়েও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি ছিল। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকদের প্রায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ দিতে হয়েছে। বিদেশি উৎপাদন দলের সঙ্গে ভিডিও সম্মেলন, বিশেষজ্ঞদের সফর এবং বিদেশি ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় বাংলাদেশে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর করা হয়েছে।

    এরপর প্রচলিত পোশাক কারখানা থেকে নিয়োগ দেওয়া শ্রমিকদের বিয়ের পোশাক তৈরির বিশেষ কৌশল শেখানো হয়।

    এই প্রশিক্ষণের ফল ধীরে ধীরে উৎপাদন সক্ষমতায় দেখা দিতে শুরু করেছে। শুরুতে কারখানাটির দক্ষতা ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ। এখন তা বেড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য এই দক্ষতা ৮০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া।

    একটি উৎপাদন লাইন দিয়ে যাত্রা শুরু করা কারখানাটিতে এখন আটটি উৎপাদন লাইন রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ১৬টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি লাইনে প্রায় ২৩ জন করে কর্মী কাজ করেন।

    অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি একবারে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ না করে ধীরে ধীরে লোকবল বাড়াচ্ছে, তাঁদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং দক্ষতা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন লাইন বাড়াচ্ছে। বিশেষায়িত শিল্পে দক্ষ শ্রমিক তৈরির ক্ষেত্রে এই ধীরগতির পদ্ধতিটি গুরুত্বপূর্ণ।

    ইউবিএফ ব্রাইডালের বিশেষত্ব হলো, তারা মূলত এমন শ্রমিকদের নিয়োগ করছে না যাঁদের আগে থেকেই বিয়ের পোশাক তৈরির অভিজ্ঞতা আছে। বরং প্রচলিত পোশাক কারখানায় কাজ করা এবং বিভিন্ন সেলাইযন্ত্র পরিচালনায় দক্ষ শ্রমিকদের নিয়ে এসে তাঁদের নতুন ধরনের কাজ শেখানো হচ্ছে।

    নতুন কর্মীদের সাধারণত প্রায় তিন মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রচলিত পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত ওভারলক ও এক সূচের যন্ত্র পরিচালনার দক্ষতাকে ভিত্তি করে তাঁদের বিয়ের পোশাক তৈরির উপযোগী করে তোলা হয়।

    এখানেই বাংলাদেশের জন্য বড় একটি শিক্ষা রয়েছে। একটি নতুন উচ্চমূল্যের শিল্প গড়ে তুলতে সবসময় নতুন শ্রমশক্তি তৈরি করতে হবে এমন নয়। বিদ্যমান পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের দক্ষতাকে আরও উন্নত করে তাঁদের নতুন পণ্যের উৎপাদনে যুক্ত করা সম্ভব।

    তবে সাধারণ পোশাক ও বিয়ের পোশাকের মধ্যে কাজের ধরনে বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রচলিত পোশাক উৎপাদনে দ্রুততা, পরিমাণ এবং একই কাজ বারবার করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতে বিয়ের পোশাকে প্রয়োজন নিখুঁততা, ধৈর্য, সূক্ষ্ম কারিগরি জ্ঞান এবং প্রতিটি পোশাকের বিস্তারিত অংশের প্রতি বাড়তি মনোযোগ।

    এই পরিবর্তন শুধু শ্রমিকের কাজের ধরন বদলাচ্ছে না; একই সঙ্গে তাঁদের তৈরি করা পণ্যের মূল্যও বাড়াচ্ছে।

    ইউবিএফ ব্রাইডালের অগ্রগতি রপ্তানির হিসাবেও দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং স্থানীয় কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৫৭ জন।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৫ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। পরে কর্মীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪৫০ জন হয়েছে।

    বাংলাদেশে উৎপাদন শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটির মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করা হতো। এখন বাংলাদেশ থেকেই গোষ্ঠীটির মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ হচ্ছে।

    প্রতিষ্ঠানটির পোল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রেও উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ শ্রম ব্যয়ের পার্থক্য।

    পোল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে আরও বেশি উৎপাদন বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে চায়। এমন হলে ভবিষ্যতে শুধু কর্মসংস্থানই বাড়বে না, বিশেষায়িত পোশাক তৈরির অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগও দেশে বাড়তে পারে।

    বাংলাদেশে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থাও গড়ে তুলতে চাইছে। বর্তমানে কিছু বিশেষ ধরনের লেস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার মধ্যে মিয়ানমার থেকে আসা লেসও রয়েছে।

    তবে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে নিজস্ব কারুকাজের বিভাগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে পোশাকের আরও বেশি উপাদান দেশে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর ফলে ধীরে ধীরে শুধু বিয়ের পোশাক তৈরি নয়, এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন উপকরণও স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একটি পোশাক কারখানাকে একটি সমন্বিত বিয়ের পোশাক উৎপাদনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার দিকেই এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

    এর অংশ হিসেবে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিয়ের জুতা তৈরির একটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং শুরুতে প্রায় ৪৫ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হতে পারে।

    এ ধরনের সম্প্রসারণ সফল হলে একই পণ্যের বিভিন্ন অংশের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি দেশে নতুন ধরনের সরবরাহকারী ও দক্ষ কর্মী তৈরির সুযোগও বাড়বে।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি এখনো বিপুল পরিমাণ পোশাক উৎপাদনের সক্ষমতা। কিন্তু ভবিষ্যতে শুধু পরিমাণ বাড়িয়ে রপ্তানি আয় বাড়ানো কঠিন হতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামের পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে।

    এই জায়গায় বিয়ের পোশাকের মতো বিশেষায়িত পণ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি কিছু বিয়ের পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ডলারে বিক্রি হয়। উচ্চমূল্যের কিছু পোশাকের দাম ১ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে তৈরি পণ্যের গড় মূল্য পণ্যভেদে প্রায় ১২০ থেকে ১৭৮ ডলারের মধ্যে।

    অর্থাৎ একই শ্রমশক্তি ও উৎপাদন অবকাঠামো ব্যবহার করে যদি আরও জটিল ও নকশানির্ভর পোশাক তৈরি করা যায়, তাহলে প্রতিটি পণ্যের বিপরীতে বেশি মূল্য পাওয়া সম্ভব।

    এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এতদিন পোশাকশিল্পের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করেছে বেশি পরিমাণে পোশাক উৎপাদনের ওপর। এখন সেই মডেলের পাশাপাশি বেশি মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের দিকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    নারায়ণগঞ্জে ২০০৬ সালে সাবেক আদমজী জুট মিলসের জায়গায় আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৯২ দশমিক ৬২ একর জায়গার এই শিল্পাঞ্চল বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী শিল্পকেন্দ্র।

    বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখানে ৭৬ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৪৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে এবং মোট রপ্তানি ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

    এই শিল্পাঞ্চলে বিয়ের পোশাকের মতো বিশেষায়িত পণ্যের উৎপাদন যুক্ত হওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দেখায়, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলো শুধু প্রচলিত পোশাক উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে নয়, উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত শিল্পের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

    ইউবিএফ ব্রাইডালের জন্য আদমজীর আরেকটি সুবিধা হলো তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য পরিষেবা ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন গ্যাসনির্ভর নয়। তাদের বয়লার বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে দেখা দেওয়া গ্যাস সংকটের কিছুটা প্রভাব থেকে তারা সুরক্ষিত থাকতে পারছে।

    তবে ইউবিএফ ব্রাইডালের গল্পকে শুধু বিনিয়োগ, রপ্তানি বা উৎপাদন লাইনের সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি বাদ পড়ে যায়।

    বেদানা আক্তারের মতো শ্রমিকদের জন্য এটি নতুন একটি পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছে। প্রচলিত পোশাক কারখানায় কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসে তাঁরা এমন একটি পণ্য তৈরি করতে শিখছেন, যার প্রতিটি অংশে আলাদা কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন।

    শিল্পের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে এই দক্ষতা তৈরিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি দেশ নতুন ধরনের পণ্য তৈরি করতে চাইলে শুধু কারখানা ও যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ করলেই হয় না। প্রয়োজন সেই পণ্য তৈরির জন্য উপযুক্ত শ্রমিক, ব্যবস্থাপক, কারিগরি জ্ঞান এবং উৎপাদন সংস্কৃতি।

    ইউবিএফ ব্রাইডালের ক্ষেত্রে সেই দক্ষতা বাইরে থেকে পুরোপুরি নিয়ে আসার পরিবর্তে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে তৈরি করা হচ্ছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় শ্রমিকদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি নতুন ধরনের উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে উঠছে।

    এখানেই বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যতের জন্য বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্ববাজারে বড় অবস্থান তৈরি করেছে মূলত প্রতিযোগিতামূলক দাম ও বিপুল উৎপাদন সক্ষমতার মাধ্যমে। কিন্তু ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে শুধু বেশি পোশাক তৈরি করাই যথেষ্ট হবে না। নকশা, কারিগরি দক্ষতা, মান, ব্র্যান্ডমূল্য এবং পণ্যের বৈচিত্র্যের দিকেও এগোতে হবে।

    বিয়ের পোশাক সেই পরিবর্তনের একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এটি এখনো বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির তুলনায় খুবই ছোট একটি ক্ষেত্র। কিন্তু এই খাতের জন্য যে ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন, তা ভবিষ্যতে আরও অনেক উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।

    একজন শ্রমিক যখন সাধারণ পোশাকের কাজ থেকে সূক্ষ্ম লেস, কারুকাজ ও নকশানির্ভর বিয়ের পোশাক তৈরিতে দক্ষ হয়ে ওঠেন, তখন শুধু একটি নতুন পণ্য তৈরি হয় না; একই সঙ্গে দেশের শিল্পশ্রমের মূল্যও বাড়ে।

    একটি কারখানা এক উৎপাদন লাইন থেকে আট লাইনে পৌঁছেছে। সামনে আরও আটটি লাইন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে গোষ্ঠীটির মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ পূরণ হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে উৎপাদনের আরও বড় অংশ দেশে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

    তাই আদমজীতে তৈরি হওয়া বিয়ের গাউনগুলোর গুরুত্ব শুধু বিদেশের কোনো কনের পোশাক হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের একটি সম্ভাব্য নতুন পথ—কম পরিমাণে হলেও বেশি মূল্যবান পণ্য তৈরি, শ্রমিকদের বিশেষায়িত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরও উঁচু স্তরের প্রতিযোগিতায় যাওয়ার সুযোগ।

    আজ বিয়ের পোশাক হয়তো একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র। কিন্তু এই খাতের মাধ্যমে যে দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, সেটিই আগামী দিনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে আরও বৈচিত্র্যময় ও উচ্চমূল্যের বাজারে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি হতে পারে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    কর কমেছে, তবু কমেনি দাম—ভোক্তার স্বস্তি কোথায়?

    আগস্ট 31, 2026
    অর্থনীতি

    প্রিপেইড মিটারের ‘গোস্ট বিল’ নিয়ে যা বলল ডিপিডিসি

    আগস্ট 31, 2026
    অর্থনীতি

    জাহাজভাঙা শিল্পে ১০০ গ্রিন ইয়ার্ডের লক্ষ্য, বর্তমানে আছে ৩১টি

    আগস্ট 31, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.