সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পর এবার পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার পথ খুলছে। নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর মাসিক পেনশনও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত নতুন পে-স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে ১২তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির হার আরও বেশি, যা ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এর ফলে বর্তমানে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকায় পৌঁছাবে। একইভাবে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে।
তবে নতুন কাঠামোর সব আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হবে না। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চারটি ধাপে এসব সুবিধা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। পুরো ব্যবস্থা কার্যকর হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
নতুন পে-স্কেলের পাশাপাশি পেনশন ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সামরিক ও বেসামরিক সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একই গ্রেডে চাকরি করা ব্যক্তিদের অবসরের সময় ভিন্ন হলেও ভবিষ্যতে তাদের পেনশনে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হবে।
তবে এই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। একদিকে এটি বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, অন্যদিকে ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া অনেক বেসামরিক কর্মচারীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত নেই। এসব কারণে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা কার্যকর করে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যবর্তী সময়ে পেনশনভোগীদের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে স্ল্যাবভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা বেশি হারে বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।
যাদের বর্তমানে মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম, তাদের পেনশন দ্বিগুণ হবে। অর্থাৎ ৯ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি নতুন হিসাবে ১৮ হাজার টাকা পেতে পারেন। যাদের মাসিক পেনশন ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের পেনশন ৭৫ শতাংশ বাড়ানো হবে।
একইভাবে ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হবে ৬৫ শতাংশ। ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা পাবেন ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি। আর যাদের বর্তমান মাসিক পেনশন ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি, তাদের পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ হারে।
নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের পেনশনভোগীদের মাসিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বাড়তি অর্থ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে বড় ধরনের সহায়তা দিতে পারে।

