একসময় বাংলাদেশে জুতা কেনার প্রধান কারণ ছিল প্রয়োজন। পুরোনো জুতা নষ্ট হয়ে গেলে নতুন এক জোড়া কিনতেন মানুষ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অভ্যাস বদলেছে। এখন একটি পরিবারে স্কুলের জুতা, অফিসের জুতা, হাঁটার জন্য স্যান্ডেল, প্রতিদিন চলাফেরার জন্য আরামদায়ক জুতা এবং ঈদ বা বিয়ের মতো বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা জুতার প্রয়োজন হচ্ছে।
শুধু ব্যবহার নয়, জুতার নকশা, আরাম ও ব্যক্তিগত পছন্দও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একসময় তরুণদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় থাকা ক্রীড়াধর্মী জুতা এখন অফিসেও দেখা যায়। হালকা ও আরামদায়ক জুতা বিভিন্ন বয়সের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের জুতার বাজারে প্রয়োজনের পাশাপাশি ফ্যাশন ও আরামের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
এই পরিবর্তন দেশের জুতা শিল্পের সামনে একই সঙ্গে দুটি বড় বাজার খুলে দিয়েছে। দেশের ভেতরে বিশাল জনগোষ্ঠী ও পরিবর্তিত জীবনযাত্রার কারণে কম দামের সাধারণ জুতার বাইরে নতুন নতুন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা চীনের মতো প্রচলিত উৎপাদনকেন্দ্রের বাইরে নতুন সরবরাহকারী খুঁজছেন। ফলে বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে বাজারের আকার বড় হলেও এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি দেশের জুতা শিল্প। উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে মান, নকশা, কাঁচামাল, দক্ষতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতিও এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
দেশের ভেতরেই বিশাল বাজার
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩৭ কোটি ৮০ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ থেকে ৬৬ শতাংশ দেশের বাজারেই ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ বছরে স্থানীয়ভাবে প্রায় ২০ কোটি থেকে ২৫ কোটি জোড়া জুতা বিক্রি হয়। সাম্প্রতিক শিল্প-সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, দেশের জুতার বাজারের আকার ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
তবে এই বাজারের বড় একটি অংশ এখনো ছোট ও মাঝারি উৎপাদকদের হাতে। দেশে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৯০টি বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে জুতার উৎপাদন ও বিক্রির পুরো চিত্র বড় পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর তথ্য দিয়ে বোঝা যায় না।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, মোট বিক্রির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর মাধ্যমে। ছোট উৎপাদকরা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে কম দামের জুতা সরবরাহ করলেও তাদের প্রকৃত বাজার অংশীদারত্বের নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। একই সঙ্গে এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বাজারের সঠিক তথ্যের ঘাটতি, পণ্যের মানে অসামঞ্জস্য এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হওয়া জুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে গত পাঁচ থেকে সাত বছরে স্থানীয় ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের আস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে বিদেশি ব্র্যান্ডকে ভালো নকশা ও উন্নত মানের প্রতীক হিসেবে দেখতেন অনেক ক্রেতা। এখন দেশীয় পণ্য বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা পণ্য, খেলাধুলার জুতা, দৈনন্দিন ব্যবহারের জুতা এবং বিশেষ অনুষ্ঠানের জুতার পরিসর বাড়িয়েছে। দোকানের সাজসজ্জা ও পণ্যের উপস্থাপনেও এসেছে পরিবর্তন।
শুধু ব্যবহার নয়, আরামও চাই
দেশের বাজারে স্যান্ডেল ও চপ্পলের চাহিদাই এখনো সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের আবহাওয়া, মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস এবং দামের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে এই ধরনের জুতার বাজার বড়। তবে বাজারের নতুন প্রবৃদ্ধি আসছে পণ্যের বৈচিত্র্য থেকে।
কাজের জায়গা ও বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্যবহারের চামড়ার জুতার চাহিদা থাকলেও আনুষ্ঠানিক ও সাধারণ ব্যবহারের জুতার পার্থক্য ধীরে ধীরে কমছে। ক্রীড়াধর্মী জুতা, খেলাধুলার আদলের জুতা, হালকা জুতা ও সহজে পরা যায় এমন জুতা এখন কর্মস্থল, যাতায়াত ও অবসর—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
একসময় যে ধরনের জুতা মূলত তরুণ পুরুষদের জন্য বাজারজাত করা হতো, এখন নারী ও বয়স্ক ক্রেতারাও সেসব পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বাজারের বিভাজন শুধু বয়স বা লিঙ্গের ভিত্তিতে হচ্ছে না; বরং কাজ, উপলক্ষ, আরাম ও ব্যক্তিগত পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে আরামের চাহিদা। দীর্ঘ সময় যাতায়াত, কর্মস্থলে তুলনামূলক স্বাভাবিক পোশাকের প্রচলন এবং শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়ায় নরম তলা, হালকা উপকরণ ও নমনীয় জুতার চাহিদা বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের প্রবণতা দ্রুত দেশের বাজারে পৌঁছে দিচ্ছে।
তবে দামের বিষয়টি এখনো বড় সীমা তৈরি করে। মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে ক্রেতারা বেশি আরাম ও আকর্ষণীয় নকশা চান, কিন্তু অতিরিক্ত দাম দিতে চান না। এ জায়গায় স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর সুযোগ রয়েছে। দেশের আবহাওয়া ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে মিল রেখে আন্তর্জাতিক ধাঁচের জুতা তৈরি করতে পারলে তারা বড় বাজার ধরতে পারে।
এ কারণেই চামড়ার পাশাপাশি কৃত্রিম ও মিশ্র উপকরণ দিয়ে তৈরি জুতার ব্যবহার বাড়ছে। তুলনামূলক কম দামে এসব উপকরণে নকশা ও বৈচিত্র্য আনা সহজ।
এখন কম দামের জুতার ক্ষেত্রেও ক্রেতাদের প্রত্যাশা বেড়েছে। একটি সাধারণ স্যান্ডেল বা চপ্পলও কেনার সময় তারা আরাম, মাপ, দেখতে কেমন এবং কতদিন টিকবে—সবকিছু বিবেচনা করেন।
ফলে উৎপাদকদের সামনে কঠিন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দাম খুব বেশি না বাড়িয়ে পণ্যে দৃশ্যমান বাড়তি মূল্য যোগ করতে হবে। এ জন্য শুধু নকশা নয়, উপকরণ নির্বাচন, পণ্যের গঠন ও উৎপাদন ব্যবস্থার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বেশি বৈচিত্র্যে বাড়ছে নতুন চ্যালেঞ্জ
বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ার সঙ্গে উৎপাদকদের ওপরও চাপ বাড়ছে। বেশি রং, মাপ, তলার ধরন ও মৌসুমি সংগ্রহের পণ্য তৈরি করতে হলে নকশা ও মজুত ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে হয়।
ঈদ বা নির্দিষ্ট মৌসুম শেষ হওয়ার পর যাতে অতিরিক্ত পণ্য পড়ে না থাকে, সে জন্য চাহিদা সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও দ্রুত উৎপাদন পরিকল্পনা প্রয়োজন। দেশের গরম, বৃষ্টি এবং দীর্ঘ সময় হাঁটার বাস্তবতা মাথায় রেখে জুতার মাপ, উপকরণ ও তলার নকশা নিয়ে গবেষণাও জরুরি।
অনলাইন বিক্রি দেশের বড় শহরের বাইরেও জুতার বাজার বিস্তারের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে পর্দার মাধ্যমে জুতার মাপ, আরাম ও পরার উপযোগিতা বোঝা কঠিন। তাই অনলাইন বিক্রির পাশাপাশি সহজে পণ্য বদলানোর সুযোগ, একই মাপের জুতায় মানের সামঞ্জস্য এবং প্রয়োজনে সরাসরি দোকানে যাচাইয়ের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
দেশের জুতা পৌঁছাচ্ছে বিশ্ববাজারে
দেশীয় বাজারের মতো রপ্তানি খাতেও বাংলাদেশের জুতা শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াবিহীন জুতা মিলিয়ে বাংলাদেশ প্রায় ১২২ কোটি ডলার আয় করেছে।
এর মধ্যে চামড়ার জুতা থেকে এসেছে প্রায় ৬৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। কৃত্রিম উপকরণ, রাবার, প্লাস্টিক ও বস্ত্র দিয়ে তৈরি জুতা থেকে এসেছে প্রায় ৫৩ কোটি ১০ লাখ ডলার।
গত এক দশকে চামড়াবিহীন জুতা শিল্পের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। বিশ্বজুড়ে ক্রীড়ার জুতা, দৌড়ানোর জুতা ও কম দামের দৈনন্দিন জুতার চাহিদা বাড়ছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের এই খাতের রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগের দুই বছরে তুলনামূলক ভালো প্রবৃদ্ধির পর এই ধীরগতি দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু বৈশ্বিক চাহিদা থাকলেই দ্রুত রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব নয়।
উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় জুতা উৎপাদক দেশগুলোর একটি হলেও রপ্তানি আয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে। ভিয়েতনাম বছরে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি এবং ইন্দোনেশিয়া ৬০০ কোটি ডলারের বেশি জুতা রপ্তানি করে।
এসব দেশে জুতা তৈরির কাঁচামাল ও উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, বেশি উৎপাদনশীলতা, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।
তবে চীনের বাইরে উৎপাদনকেন্দ্র খুঁজতে থাকা আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছেন। বিশেষ করে চামড়াবিহীন ও ক্রীড়াধর্মী জুতার বাজারে এই সুযোগ বড়।
বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক শ্রম ব্যয়, বড় পরিসরে উৎপাদনের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত কর্মীশক্তি দেশটিকে সুবিধা দিতে পারে। দেশের নিজস্ব চামড়ার সহজলভ্যতাও চামড়ার জুতায় বেশি স্থানীয় মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি করে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু কম দাম দিয়ে অর্ডার পাওয়া যায় না। ক্রেতারা পণ্যের মানের ধারাবাহিকতা, নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ, পরিবেশগত মান, পণ্যের উৎস সম্পর্কে তথ্য এবং নতুন পণ্য তৈরির সক্ষমতাও বিবেচনা করেন।
বাংলাদেশকে তাই শুধু বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র নয়, বরং নকশা, উপকরণ ও তৈরি জুতার নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বড় বাধা
এই পরিবর্তনের পথে বেশ কিছু সমস্যা এখনো রয়েছে। উৎপাদকদের মতে, ঋণের উচ্চ খরচ ও অর্থায়নের সীমিত সুযোগ নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন কিংবা কারখানা সম্প্রসারণে বাধা দিচ্ছে। জ্বালানির দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তাও উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য খালাসে বিলম্ব। এতে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
চামড়াবিহীন জুতার ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও প্রকট। শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, চামড়া ছাড়া অন্যান্য কাঁচামাল ও উপকরণের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। কাপড়, কৃত্রিম ওপরের অংশ, বিশেষ ধরনের তলা, রাসায়নিক উপকরণ, আঠা ও বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সামগ্রী মূলত বিদেশ থেকে, বিশেষ করে চীন থেকে আমদানি করা হয়।
ফলে সরবরাহে সময় বাড়ে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার প্রভাব পড়ে উৎপাদন ব্যয়ে।
এখানে বাংলাদেশের জন্য একটি কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় স্থানীয় কাঁচামাল সুবিধা চামড়া। অথচ দ্রুত বাড়তে থাকা ভোক্তা ও রপ্তানি বাজারের বড় অংশ এখন ক্রীড়াধর্মী ও চামড়াবিহীন জুতার দিকে।
চামড়াবিহীন জুতার উৎপাদন বাড়লেও যদি প্রয়োজনীয় উপকরণ দেশে তৈরি না হয়, তাহলে উৎপাদন বাড়ার তুলনায় দেশের অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন একই হারে বাড়বে না।
তাই জুতার তলা, ছাঁচ, বিশেষ ধরনের কাপড়, আনুষঙ্গিক সামগ্রী ও রাসায়নিক উপকরণ তৈরিতে দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। এতে উৎপাদনের সময় কমবে, আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং শিল্পের সুফল শুধু জুতা জোড়া লাগানোর পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
দক্ষ কর্মী ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন জরুরি
জুতা শিল্পের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষ জনবল। নকশা তৈরি, ছাঁচ উন্নয়ন, সেলাই, শেষ ধাপের কাজ, পণ্যের বাজারজাতকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন। শিল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে উৎপাদনশীলতা ও নতুন পণ্য তৈরির সক্ষমতা সীমিত থাকবে।
চামড়ার জুতার ক্ষেত্রে পরিবেশগত মান পূরণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের পরিচালনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বিশ্ববাজারে পরিবেশ ও পণ্যের উৎস সম্পর্কে তথ্যের বিষয়ে নিয়ম আরও কঠোর হচ্ছে। ফলে চামড়া সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ আন্তর্জাতিক মান পূরণ করতে না পারলে উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।
পরিবেশবান্ধব উৎপাদন শুধু রপ্তানির শর্ত নয়, দেশের বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী জুতা হলে ক্রেতাকে ঘন ঘন নতুন জুতা কিনতে হয় না। এতে যেমন ভোক্তার খরচ কমে, তেমনি উপকরণের অপচয়ও কমে।
সামনে বড় সুযোগ, তবে বদলাতে হবে শিল্পের ধরন
বাংলাদেশের জুতার বাজার এখন আর শুধু প্রয়োজন মেটানোর বাজার নয়। দেশের ক্রেতারা বেশি বৈচিত্র্য, আরাম ও ভালো নকশা চান। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও নতুন উৎপাদনকেন্দ্র খুঁজছেন।
এই দুই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো যথেষ্ট হবে না। স্থানীয় কাঁচামাল ও উপকরণ উৎপাদন, দক্ষ কর্মী তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং নিজস্ব নকশার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ যদি এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, তাহলে চামড়া ও চামড়াবিহীন জুতা শিল্প শুধু বড় কর্মসংস্থান ও রপ্তানি খাত হিসেবেই নয়, উচ্চমূল্যের তৈরি পণ্য উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

