চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩২ কোটি ডলারের বেশি। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। গত বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে ৪৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা নেমে এসেছে প্রায় ৪৬৬ কোটি ডলারে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের বস্ত্র ও পোশাকবিষয়ক দপ্তর প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের গড় দামও কমেছে সোয়া ২ শতাংশ। শুধু বাংলাদেশ নয়, একই সময়ে ভিয়েতনাম, চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর পোশাক রপ্তানিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, শুল্কনীতির চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির সামগ্রিক পোশাক আমদানিতে। বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি প্রায় ৪০০ কোটি ডলার কমেছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চীন ও ভারতের রপ্তানিতে।
তবে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া এ পরিস্থিতিতেও রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। একই সময়ে কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
এদিকে প্রায় সব প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশের গড় একক মূল্য কমেছে। এর মধ্যে চীনের পোশাকের গড় একক মূল্য সবচেয়ে বেশি কমেছে, ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।
বাংলাদেশের পোশাকের ক্ষেত্রেও গড় একক মূল্য কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ রপ্তানির পরিমাণের পাশাপাশি প্রতি ইউনিট পোশাকের মূল্য কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

