আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। প্রতি টন কয়লার দাম ১৪৫ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে কয়লার ব্যবহারও নতুন রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বে কয়লার মোট চাহিদা প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৮৯৪ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে। এর আগে সংস্থাটি কয়লার ব্যবহার কমার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনের কারণে সেই পূর্বাভাস বদলেছে।
কয়লার চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান তুলনামূলকভাবে বেশি কয়লা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।
বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের পরিবর্তে কয়লার ব্যবহার বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার চাহিদা ও দাম দুটোই বাড়ছে।
আবহাওয়াজনিত কারণও এই চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
একই সময়ে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো কয়েকটি দেশে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিকল্প উৎস হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
বিশ্বজুড়ে বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লেও তা বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পুরোপুরি সামাল দিতে পারছে না। ফলে কয়লার মতো প্রচলিত জ্বালানির ব্যবহার এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী বছরও কয়লার ব্যবহার নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কয়লার গুরুত্ব আরও কিছুদিন শক্তিশালী থাকতে পারে। একই সঙ্গে গ্যাসের সরবরাহ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা আগামী দিনে কয়লার দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

