Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, অক্টো. 7, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বেতননির্ভর জীবন কতটা নিরাপদ: সম্পদ থেকে আয়ের ভাবনা কতটা জরুরি
    অর্থনীতি

    বেতননির্ভর জীবন কতটা নিরাপদ: সম্পদ থেকে আয়ের ভাবনা কতটা জরুরি

    রাকিবুল ইসলামঅক্টোবর 6, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ধরুন, আগামী মাসের শেষ তারিখে ফোনে বেতনের এসএমএসটা এলো না। সংসার কতদিন চলবে, আর কিসের ভরসায় চলবে? এই প্রশ্ন একসময় শুধু চাকরি হারানো মানুষের ছিল, এখন বেতনভোগী মধ্যবিত্তের ঘরেও এটি নিয়মিত উঠছে। কারণ তিনটি চাপ একসঙ্গে জমেছে। আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.২৬ শতাংশ,বেসরকারি চাকরির বেতন ও মজুরির প্রবৃদ্ধি সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না, আর সঞ্চয়ের ওপর সুদের যে আয় ভরসা ছিল, ব্যাংকগুলো সেটাও কমাতে শুরু করেছে। অর্থাৎ বেতন বন্ধ হলে যে ঢালটি ধরার কথা, সেই সম্পদ থেকে আয়ের প্রয়োজন বাড়ছে ঠিক তখনই, যখন ঢালটি পাতলা হচ্ছে। চলুন এই লেখায় তত্ত্ব আর সংখ্যা মিলিয়ে সেই টানাপোড়েনের কারণ খুঁজে দেখি।

    দাম কমেনি, বাড়ার গতি কমেছে: তাহলে বেতনের টাকা কোথায় যাচ্ছে?

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮.২৬ শতাংশে, যা গত দশ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খবরটা স্বস্তির মনে হতে পারে, কিন্তু ব্যুরোর এক কর্মকর্তাই ব্যাখ্যা করেছেন, এর মানে পণ্যের দাম কমছে না। গত বছরের আগস্টে যে জিনিসের দাম ছিল ১০০ টাকা, এখন সেটির দাম ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা। দাম বাড়ছেই, শুধু বাড়ার গতিটা একটু ঢিলে হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.০২ শতাংশে নামলেও খাদ্যবহির্ভূত খাতে তা বেড়ে ৯.৩২ শতাংশ হয়েছে, আর ২০২৫ ও ২৬ অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৮ শতাংশ। এই দামের সঙ্গে বেতন কতটা তাল মেলাচ্ছে? বিবিএসের মজুরি হার সূচক বলছে, মার্চ পর্যন্ত টানা ৫০ মাস মজুরির প্রবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির নিচে ছিল। মার্চে মজুরি বেড়েছে ৮.০৯ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১ শতাংশ। জুলাইয়েও জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বেড়েছে ৮.২২ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩২ শতাংশ। ব্যতিক্রম ঢাকা বিভাগ, যেখানে জুলাইয়ে মজুরি বেড়েছে ৮.৭২ শতাংশ, আর শহরের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.২৪ শতাংশ। এখানে একটি সতর্কতা জরুরি: এই সূচক ৬৩টি পেশার স্বল্প আয়ের শ্রমিকের মজুরির, অফিসে কাজ করা মধ্যবিত্তের বেতনের সরাসরি মাপকাঠি নয়। তবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এ বছরের একটি গবেষণাপত্র, যেটি শ্রমশক্তি জরিপের মূল তথ্য ব্যবহার করেছে, দেখিয়েছে মজুরিভোগী কর্মীদের প্রকৃত গড় মাসিক আয় ২০২৪ সালেও ২০১৬ ও ১৭ অর্থবছরের স্তরের অনেক নিচে ছিল। ফল দাঁড়ায় এই: বেতনের অঙ্ক বাড়ছে, কিন্তু সেই অঙ্কে কেনা যায় আগের চেয়ে কম জিনিস।

    বেতন বন্ধ হওয়ার তিনটি চেহারা, যার একটিই আমরা সাধারণত দেখি

    আমরা সাধারণত বেতন বন্ধ বলতে চাকরি চলে যাওয়া বুঝি। কিন্তু আয় থেমে যাওয়ার আরও দুটি নীরব রূপ আছে: আয় না বাড়া, আর অবসরে আয় শূন্য হয়ে যাওয়া। প্রথম রূপের ছবি এ বছর বেশ স্পষ্ট। মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ৮০টি পোশাক কারখানায় ২০ হাজার ৭৮৩ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। আর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৪৫৭টি পোশাক ও বস্ত্র কারখানা বন্ধ হয়ে ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি কর্মী বেকার হয়েছেন। এটি সরকারি হিসাব নয়, একটি সংগঠনের সংকলন, তাই একে ছবির ইঙ্গিত হিসেবে পড়াই ঠিক, চূড়ান্ত গণনা হিসেবে নয়। বড় ছবিটা ধরা পড়ে আইএলওর হিসাবে। ২০২৪ সালে মোট কর্মসংস্থানের মাত্র ৩৭.৬২ শতাংশ ছিলেন মজুরিভোগী, আর ৮৪.০৭ শতাংশ কর্মসংস্থান ছিল অনানুষ্ঠানিক। বেকারত্বের হার ছিল ৩.৬৩ শতাংশ, যা শুনতে কম, কিন্তু একই গবেষণাপত্র বলছে, যাঁদের বেকার বসে থাকার সামর্থ্য নেই, তাঁরা কম আয়ের কাজে ঢুকে পড়েন, তাই খোলা বেকারত্বের চেয়ে অর্ধবেকারত্ব বেশি ছড়ানো। শেষ রূপটি অবসর। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভার খবরে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত কর্মীর বড় অংশ এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অবসর সুরক্ষার বাইরে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও জুনে প্রায় একই কথা বলেছেন: শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে, আর তাঁরা আনুষ্ঠানিক পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের বাইরে। আইএলওর ৮৪ শতাংশ আর পেনশন কর্তৃপক্ষের ৮৫ শতাংশ, দুটি আলাদা উৎসের হিসাব প্রায় মিলে যাওয়াটা সংখ্যার ওপর ভরসা দেয়।

    এখানে অর্থনীতির দুটি পুরোনো তত্ত্ব কাজে লাগে। ফ্রাঙ্কো মদিলিয়ানি ও রিচার্ড ব্রামবার্গের জীবনচক্র তত্ত্ব বলে, মানুষ কর্মজীবনে সঞ্চয় করে বার্ধক্যের খরচ মেটানোর জন্য। এই কাজের স্বীকৃতিতে মদিলিয়ানি ১৯৮৫ সালে নোবেল পান, আর নোবেল কমিটি নিজেই বলেছিল, পেনশন ব্যবস্থার প্রভাব বিশ্লেষণে তত্ত্বটি আদর্শ হাতিয়ার, কারণ সাধারণ পেনশন চালু হলে ব্যক্তিগত সঞ্চয় কমে। এর উল্টো দিকটা আমার অনুমান, তবে যুক্তিসংগত: যে সমাজে পেনশনের জাল পাতলা, সেখানে মানুষকে নিজের সম্পদ থেকেই বার্ধক্যের আয় জোগাড় করতে হয়। দ্বিতীয় তত্ত্বটি মিল্টন ফ্রিডম্যানের স্থায়ী আয় তত্ত্ব, যার জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে নোবেল পান। এই তত্ত্বে মানুষ এক বছরের আয় দেখে নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী আয়ের ধারণা দেখে খরচ ও সঞ্চয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ফ্রিডম্যান নিজেই বলেছেন, খরচের অনুপাত যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তার মধ্যে আছে সুদের হার, আয়ের তুলনায় সম্পদের অনুপাত, এমনকি পেশা নিয়ে অনিশ্চয়তার মাত্রা। সহজ কথায়, চাকরির নিশ্চয়তা যত কমে, ঘরে একটা বাড়তি সম্পদের বালিশ রাখার তাগিদ তত বাড়ে। মধ্যবিত্ত আজ ঠিক এই তাগিদ থেকেই সম্পদ থেকে আয়ের কথা ভাবছে।

    ৩০ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখলে মাসে ২০ হাজার টাকা আসে, তবু সেটি কেন আসল আয় নয়?

    অর্থনীতিবিদ আর্ভিং ফিশারের নামে পরিচিত সূত্রটা সরল: প্রকৃত সুদের হার মোটামুটি নামমাত্র সুদের হার থেকে মূল্যস্ফীতি বাদ দিলে যা থাকে, তা-ই। অর্থাৎ ব্যাংক আপনাকে ৮ শতাংশ সুদ দিল, কিন্তু দাম বাড়ল ৮.২৬ শতাংশ, তাহলে আপনার টাকার কেনার ক্ষমতা আসলে কমল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট বলছে, নতুন আমানতে প্রকৃত সুদ ২০২৫ সালের জুন থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইতিবাচক ছিল। মার্চের শেষে তা প্রায় শূন্যে নামে, কারণ ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬ শতাংশ আর গড় আমানত সুদও প্রায় সমান। জুনে গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৬৮ শতাংশে উঠলে আমানতের সুদ আবার মূল্যস্ফীতির নিচে চলে যায়, মানে প্রকৃত সুদ ঋণাত্মক হয়। এরপর ব্যাংকগুলো সুদ আরও কমাচ্ছে, আর এর কারণ ব্যাংকের ভেতরেই। ট্রেজারি বিলের সুদহার গত বছরের জুনের শেষে প্রায় ১২ শতাংশ ছিল, ২০ সেপ্টেম্বরের নিলামে তা নেমেছে ৮.৩২ থেকে ৮.৪৭ শতাংশে। নীতি সুদহার ১০ থেকে কমে ৯.৫ শতাংশ হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য মে মাসে উঠেছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকায়, এক বছর আগে যা ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আর ঋণের চাহিদা এতটাই কম যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে। টাকা জমছে, ঋণ নেওয়ার লোক নেই, তাই সবল ব্যাংকগুলোর বাড়তি সুদ দিয়ে আমানত টানার তাগিদ নেই। ঢাকা ব্যাংক ছয় মাস থেকে দুই বছরের নিচের আমানতে সর্বোচ্চ সুদ জানুয়ারির ১০.৫০ থেকে আগস্টে ৭.৩৮ শতাংশে নামিয়েছে, অর্থাৎ ৩.১২ শতাংশ পয়েন্ট কম। কিছু আমানতে সুদ এখন ৭ থেকে ৮ শতাংশ, যেখানে মূল্যস্ফীতি ৮.২৬, তাই কর কাটার আগেই প্রকৃত সুদ ঋণাত্মক। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সঞ্চয়ের আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্ত মানুষেরা এই চাপ বেশি টের পেতে পারেন।

    এবার একটি উদাহরণ দিই, যা আমার নিজের হিসাব, কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নয়। ধরুন, কারও ৩০ লাখ টাকা ৮ শতাংশ সুদে এফডিআরে আছে। বছরে সুদ আসে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, মাসে ২০ হাজার। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৮.২৬ শতাংশ ধরলে ওই ৩০ লাখ টাকার কেনার ক্ষমতা ধরে রাখতে বছরে লাগে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা। মানে মাসে পুরো ২০ হাজার টাকা খরচ করলে বছর শেষে প্রকৃত অর্থে প্রায় ৭ হাজার ৮০০ টাকার ঘাটতি থেকে যায়, তা-ও কর কাটার আগে। আরেকটি হিসাব, মাসে ৩০ হাজার টাকা পেতে হলে বছরে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দরকার। প্রকৃত সুদের হার যদি ২ শতাংশ হতো, তাহলে শুধু সেই প্রকৃত সুদ থেকে ওই আয় পেতে লাগত ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৮ শতাংশ ধরে পুরো সুদ খরচ করলে লাগে ৪৫ লাখ টাকা, কিন্তু তখন প্রতি বছর ওই মূলধনের কেনার ক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা ক্ষয়ে যায়। কথাটা তাই এমন দাঁড়ায়: মূল্যস্ফীতির কাছাকাছি সুদে সুদের পুরোটা আপনার আয় নয়, তার একটা অংশ আসলে আপনার নিজের জমানো টাকারই ফেরত।

    শেয়ার, জমি, সোনা: ব্যাংকের বিকল্প খুঁজলেই কি নিরাপদ আয়?

    ব্যাংকের আয় কমলে মানুষ বিকল্প খোঁজে, এটাই স্বাভাবিক। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কম বা ঋণাত্মক প্রকৃত সুদ মানুষের সঞ্চয়কে আর্থিক খাত থেকে সরিয়ে জমি, সোনা ও বিদেশি মুদ্রার দিকে ঠেলে দিতে পারে। শেয়ারবাজারের ছবিও এখন আশ্বাস দেয় না। ৩১ আগস্ট ডিএসইএক্স নেমেছে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে, ১৩ কার্যদিবসে ৩০৬ পয়েন্ট বা প্রায় ৫ শতাংশ হারিয়ে। দৈনিক লেনদেন ১৮ কার্যদিবসে ৬১ শতাংশ কমে ১ হাজার ২১১ কোটি থেকে ৪৭৭ কোটি টাকায় নেমেছে। ইবিএল সিকিউরিটিজের বিশ্লেষণে নতুন তহবিলের অভাবকে বাজারের বড় সমস্যা বলা হয়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে বাজারসংশ্লিষ্টরা একে দীর্ঘ মন্দার শুরু মনে করছেন না, আর সূচক এর আগে প্রায় ৫ হাজার ২০০ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ পর্যন্ত উঠেছিল। এই ওঠানামাই বলে দেয়, শেয়ার থেকে নিয়মিত মাসিক আয়ের ওপর ভর করা কতটা অনিশ্চিত। দীর্ঘমেয়াদের জন্য আরেকটি উদ্যোগ ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন, যেখানে মাসে ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কিস্তি দেওয়া যায় এবং পেনশন নির্ভর করে জমার পরিমাণ ও মেয়াদের ওপর। তবে আমার মতে, এসব কোনোটিই “আজ বেতন বন্ধ হলে কাল কী” প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব নয়। সেই প্রশ্নের জন্য আগে দরকার সহজে তুলে ফেলা যায় এমন একটি জরুরি তহবিল।

    জমানোর সুযোগটাই যেখানে সবচেয়ে ছোট

    সমস্যার শেষ টুকরোটা জমানোর ক্ষমতায়। বিবিএসের সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ (এইচআইইএস ২০২২) বলছে, একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৪২২ টাকা আর ব্যয় ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। শহরের পরিবারে গড় আয় ৪৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। আয় থেকে ব্যয় বাদ দিলে গড়ে মাসে উদ্বৃত্ত থাকে মাত্র ৯২২ টাকা, যা আয়ের প্রায় ২.৮৪ শতাংশ। আমার হিসাবে, ছয় মাসের খরচের সমান, অর্থাৎ ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার একটি জরুরি তহবিল গড়তে এই হারে লাগবে প্রায় ২০৫ মাস, মানে সাড়ে ১৭ বছরের কাছাকাছি। এখানেও সতর্কতা দরকার। এটি পুরো দেশের গড় পরিবারের চিত্র, শুধু মধ্যবিত্তের নয়, জরিপটি ২০২২ সালের, আর আয়ের বৈষম্য বেশি থাকায় (আয়ের জিনি সহগ ০.৪৯৯) গড় অনেক পরিবারের বাস্তবতাকে ঢেকে রাখে। কিন্তু ইঙ্গিতটা স্পষ্ট: যে পরিবারের জমানোর ফাঁক এত সরু, তার পক্ষে মূলধন গড়ে সেখান থেকে বেতনের বিকল্প আয় তৈরি করা সময়সাপেক্ষ, আর সময়টাই এখন সবচেয়ে কম।

    সব হিসাব মিলিয়ে একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন

    আমার পর্যবেক্ষণে সমস্যাটা কাঁচির দুই ফলার মতো। একদিকে সম্পদ থেকে আয়ের চাহিদা বাড়ছে, কারণ চাকরির অনিশ্চয়তা আছে, প্রকৃত আয় স্থবির, আর পেনশনের সুরক্ষা সীমিত। অন্যদিকে নিরাপদ সম্পদ আয়ের জোগান কমছে, কারণ আমানত ও ট্রেজারির সুদ নামছে, আর শেয়ারবাজার অস্থির। এর পেছনের গণিতটা সোজা এবং অকাট্য: মূলধন সমান মাসিক আয় ভাগ প্রকৃত সুদের হার। প্রকৃত সুদ যত কমে, এক টাকা নিয়মিত আয়ের জন্য তত বেশি মূলধন লাগে। তবে ছবির অন্য পিঠও আছে, আর সেটা না বললে লেখা একপেশে হবে। মূল্যস্ফীতি দশ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে, গত বছরের জুন থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমানতে প্রকৃত সুদ ইতিবাচক ছিল, ঢাকা বিভাগে মজুরি দামের চেয়ে দ্রুত বেড়েছে, আর মূল্যস্ফীতি আরও নামলে প্রকৃত সুদ আবার ইতিবাচক হতে পারে। তাই প্রশ্নটা আর শুধু “আমি কত জমালাম” নয়। প্রশ্নটা হলো, আমার জমানো টাকা বেতনের অনুপস্থিতিতে কত মাসের আয় কিনে দিতে পারবে, আর সেই আয়ের কেনার ক্ষমতা কি টিকে থাকবে? (এটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা, কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়।)

    রাকিবুল ইসলাম
    রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ

    অক্টোবর 6, 2026
    অর্থনীতি

    তরলীকৃত গ্যাসের বড় সম্প্রসারণ, ব্যয় সামলাতে পারবে তো বাংলাদেশ?

    অক্টোবর 6, 2026
    মতামত

    পাকিস্তানের রাজনৈতিক গোলকধাঁধার পুতুল

    অক্টোবর 6, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.