প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দেশটির কাছে ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। চলতি ও আগামী অর্থবছরে দুই কিস্তিতে ৫০ কোটি ডলার করে এ অর্থ চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাড়তি আমদানি ব্যয়ের চাপ সামলাতে এ অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে।
আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সফরে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাজেট সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৩১১ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর বড় অংশ জ্বালানি তেল, এলএনজি ও খাদ্যপণ্যের বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ছিল এ অর্থায়নের প্রধান উৎস। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেয়েছিল প্রায় ৩০০ কোটি ডলার।
তবে চলতি অর্থবছরের শেষ তিন মাসে বাংলাদেশ কোনো নতুন বাজেট সহায়তার অর্থ পায়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের কাছ থেকে ১০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পেতে চূড়ান্ত আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি বাংলাদেশকে ১১ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছিল।
জাইকার কাছ থেকে নতুন বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও সরকারের আগ্রহ রয়েছে। গত অর্থবছরে সংস্থাটির কাছ থেকে ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। অন্যদিকে এডিবির সঙ্গে কয়েকটি বাজেট সহায়তা ঋণ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব ঋণ আগামী মার্চের আগে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। একই সময়ে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের দুর্বলতা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করে। সংকট মোকাবিলায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি অনুমোদন করে।
চলতি বছরের মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল ও এলএনজির সরবরাহ এবং পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় আমদানি ব্যয় আরও বেড়েছে। এতে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকির ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তার ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক ও সমঝোতার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় যথাসম্ভব কমানো জরুরি। এতে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কমানো সম্ভব হবে।সংকট মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় কমানো, বিনিময় হার নমনীয় রাখা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জ্বালানির দামের ব্যবধান দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কমানো সম্ভব হবে।

