আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সরবরাহ নিয়ে আশার খবর মিলেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে। নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণও বাড়ায় আগামী মাসগুলোতে সরবরাহ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ বাণিজ্য ও শুল্ক কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্যে দেখা যায়, ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে এই পাঁচ পণ্যের আমদানি বেড়েছে। নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
কোন পণ্যের আমদানি কত
- ভোজ্যতেল: আমদানি বেড়ে হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন, যা গত বছর ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার টন। এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টনের, যা এক বছর আগের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। সয়াবিন তেল উৎপাদনের কাঁচামাল সয়াবিন বীজের আমদানি ১ লাখ ১৩ হাজার টন বেড়ে ৫ লাখ ১ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
- চিনি: আমদানি ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন। এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার টনের, যা আগামী দিনে আরও আমদানির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
- ছোলা: ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার আমদানি লাফিয়ে ১২ হাজার টন থেকে বেড়ে হয়েছে ৮২ হাজার টন। এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের, যা এ পর্যন্ত আমদানির চেয়ে অনেক বেশি।
- মসুর ডাল: আমদানি ৬৪ হাজার টন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন। এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টনের।
- খেজুর: আমদানি ৪ হাজার টন থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার টন।
তবে আমদানি ও এলসি বাড়লেই খুচরা বাজারে দাম কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে বাজারদর নির্ভর করে। কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা চড়া থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। বৈশ্বিক বাজারের গতিবিধি, আমদানি ব্যয় ও দেশের সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন আরও জানায়, ছোলা ও ডালের ওপর বর্তমানে কোনো আমদানি শুল্ক বা কর নেই। বাজারদর সহনীয় রাখতে চিনি ও ফলের আমদানি শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছে তারা।
আমদানিকারকদের আশ্বাস
দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়,দেশের অন্যতম প্রধান নিত্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহজ করা এলসি প্রক্রিয়ার সুবিধায় আমদানিকারকেরা পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং সংকট ঠেকাতে তৎপরতা বাড়িয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল, কোনো বড় ঘাটতি নেই।
তবে চলমান বৈশ্বিক সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি। রমজানের আগে নিয়মিত চালান ও নতুন এলসির মাধ্যমে আমদানি চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করবে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

