সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দেশের মোট চাহিদার সামান্য অংশই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এর ওপর ডিলারদের মধ্যে সিলিন্ডার বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং কম দামের গ্যাস বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
চাহিদা বিপুল, সরকারি উৎপাদন সামান্য
দেশে পাইপলাইনের গ্যাসের ঘাটতি এবং নগরায়ণের বিস্তারের কারণে বোতলজাত এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেডের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টন। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, এই উৎপাদন দিয়ে দেশের মোট বার্ষিক চাহিদার ১ শতাংশের কিছু বেশি পূরণ করা সম্ভব। ফলে সরকারি সিলিন্ডারের কম দামের সুবিধা দেশের অধিকাংশ ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
বণ্টনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি এলপিজির একটি বড় অংশ বিভিন্ন বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়। বাকি অংশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ডিলারদের কাছে বিতরণ করা হয়।
তবে ডিলারদের মধ্যে সিলিন্ডার বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও অভিন্ন নীতিমালার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো ডিলার অল্পসংখ্যক সিলিন্ডার পেলেও অন্যরা তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ পাচ্ছেন। কেন এই পার্থক্য তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কম দামের গ্যাস নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ
সরকারি ও বেসরকারি সিলিন্ডারের দামের বড় ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কম দামে সরকারি সিলিন্ডার সংগ্রহ করে সেই গ্যাস বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে বেশি দামে বিক্রির ঘটনাও ঘটছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা না গেলে সরকারি ভর্তুকির সুফল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে। একই সঙ্গে বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, উদ্বেগে নিম্ন আয়ের মানুষ
এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হিসেবে সরকারি এলপিজির দাম বাড়িয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দামের কাছাকাছি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এলপি গ্যাস লিমিটেড।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সরকারি গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে। কারণ সরকারি সিলিন্ডারের কম দামই তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুবিধা।
তাই শুধু দাম বাড়ানো নয়, বরং উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো, ডিলারদের বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কালোবাজারি ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। সরকারি গ্যাসের সীমিত সরবরাহ যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

