আগামী নভেম্বর মাসেও দেশে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকছে। সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের বর্তমান দামই বহাল রেখেছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পত্র অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায়। অকটেনের দাম থাকছে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা।
সেপ্টেম্বরে দাম সমন্বয়ের পর থেকে এই দামই চলছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৩৫ টাকা। অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৬৫ টাকা। পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ চারটি পণ্যেই প্রতি লিটারে দাম বেড়েছিল ২০ টাকা করে।
সেই বর্ধিত দামই অক্টোবর মাসে বহাল ছিল। এবার নভেম্বরেও তাতে হাত দেয়নি সরকার। ফলে টানা তৃতীয় মাসের মতো একই দামে তেল কিনতে হবে ভোক্তাদের।
দাম না বাড়ায় পরিবহন ও কৃষিসহ জ্বালানিনির্ভর খাতে আপাতত নতুন করে ব্যয়চাপ তৈরি হচ্ছে না। বিশেষ করে ডিজেলের দাম পণ্য পরিবহন, সেচ ও যান্ত্রিক চাষাবাদের খরচের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এ জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকলে বাজারে পণ্যের দামে বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে।
তবে সেপ্টেম্বরের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এক দফায় প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহন ভাড়া ও অন্যান্য ব্যয়ে তার ছাপ রয়ে গেছে। বর্তমান দাম বহাল থাকায় নতুন করে আর বাড়তি বোঝা না এলেও আগের বাড়তি খরচ কমার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের গতিপ্রকৃতিও এ সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে নেমেছে। যদিও এখনো এটি উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। দাম আরও কমলে ভবিষ্যতে দেশেও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আবার বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে সরকারের ওপর চাপও বাড়বে।
সেপ্টেম্বরে দাম সমন্বয়ের সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মূল্য সমন্বয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সে সময় এমন মত দেন। এখন দাম বহাল রাখার সিদ্ধান্তে বোঝা যাচ্ছে, সরকার আপাতত বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে চায়। সব মিলিয়ে নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দামে নতুন কোনো ধাক্কা আসছে না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও সরকারের ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় আগামী মাসগুলোতে দাম নিয়ে সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট সবার।

