প্রাণ গ্রুপ বাংলাদেশের একটি বড় আঞ্চলিক পোলট্রি কোম্পানি। দেশের বেড়ে চলা ডিম ও মুরগির চাহিদা মেটাতে আগামী দুই বছরের মধ্যে তাদের পোলট্রি ব্যবসায় আরো ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে।
প্রাণের বর্তমানে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি পোলট্রি ফার্ম রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন ৫ লাখ ডিম উৎপাদন হয়। নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নোয়াখালী, শরিয়তপুর, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে চারটি আধুনিক ডিম ফার্ম তৈরি করবে। যা মিলিয়ে প্রতিদিন ২০ লাখ ডিম উৎপাদন করবে। এর পাশাপাশি, প্রাণ পোলট্রি ব্রিডিং ও সাদা মাংস উৎপাদনেও বিনিয়োগ করবে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানান, “আমরা এখন এসব জায়গায় ফার্ম স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করছি।” তিনি আরও বলেন, এই ডিম ফার্মগুলোর জন্য ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। আর ব্রিডার ও ব্রয়লার ফার্মের জন্য বরাদ্দ থাকবে ২০০ কোটি টাকা। কামাল জানান, ব্রিডার ফার্মটি এই বছর থেকে মুরগির ছানা উৎপাদন শুরু করবে এবং ব্রয়লার ফার্মটি আগামী বছর মাংস উৎপাদনে শুরু হবে।
বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৪.৫ কোটি ডিম খাওয়া হয়, যা সাধারণত উৎপাদন দিয়ে পূর্ণ হয়। বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ছোট চাষিরা প্রায় ৮০ শতাংশ ডিম এবং মুরগি উৎপাদন করে। আর বড় পোলট্রি কোম্পানিগুলি ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। ছোট চাষিদের জন্য ডিম উৎপাদনের খরচ প্রায় ১০.৫০-১১.০০ টাকা। যেখানে বড় কোম্পানিগুলোর খরচ ৮.০০-৯.০০ টাকা।
প্রাণের নির্বাহী পরিচালক নাসের আহমেদ বলেন, “কনভেনশনাল ফার্মগুলোতে তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে ডিম উৎপাদন কমে যায় এবং মুরগির মৃত্যু হার বাড়ে, ফলে ডিমের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু প্রাণের স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন সুবিধাগুলো সারা বছর স্থিতিশীল উৎপাদন নিশ্চিত করে, যা উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করে।”
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রতি ব্যক্তির গড়ে ১০৪টি ডিম খাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তা ১৩৫টি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি প্রায় ১৬০টি হতে পারে। প্রাণের প্রধান অপারেশন কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, তারা একটি আধুনিক ব্রিডার ফার্ম তৈরি করছে এবং ব্রয়লার মুরগি পালন করার জন্য বড় আকারে শেড তৈরি করছে। তিনি জানান, এসব উদ্যোগ সফল হলে প্রায় ২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১৮টি কর্পোরেট কোম্পানি পোলট্রি খাদ্য, ডিম, ডে-ওল্ড চিক এবং মুরগির উৎপাদনে নিয়োজিত। বাজারে প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছে পারাগন গ্রুপ, কাজী ফার্মস, ডায়মন্ড এগ লিমিটেড, সিপি বাংলাদেশ এবং আফিল গ্রুপ।

