২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে ফিলিস্তিনের গাজা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম জুড়ে এক নজিরবিহীন ও সুপরিকল্পিত সহিংসতার রাজত্ব কায়েম করেছে ইসরায়েল। আর যে বিষয়টি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলতে চাই- তা হলো, আমরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কোনো যোদ্ধাদের কথা বলছি না, আমরা বেসামরিক নাগরিকদের কথা বলছি।
আল-জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, কীভাবে ইসরায়েলি সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ এবং বিপুল সংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু বন্দীদের— দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যৌন সহিংসতাকে একটি ‘অন্ধকার অস্ত্র’ বা রণকৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সদে তেইমান (Sde Teiman) সামরিক কারাগারে একজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে চরমভাবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজন ইসরায়েলি সৈন্যের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করার মধ্য দিয়ে এই ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দায়মুক্তির চেহারাটি উন্মোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘বি’তসেলেম’ (B’Tselem) এবং ‘ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইসরায়েল’-এর নথিপত্র অনুসারে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত এবং নিয়মতান্ত্রিক নির্যাতন নেটওয়ার্ক, যা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান এই নির্যাতন ব্যবস্থার শিকড় মূলত ঐতিহাসিক ঔপনিবেশিক শাসনের গভীরে প্রোথিত। ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট (শাসনকাল) চলাকালীন কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি বা বিদ্রোহ দমনের নামে আইরিশ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত নিষ্ঠুর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জায়নবাদী মিলিশিয়াদের শেখানো হয়। বর্তমান ইসরায়েলি সামরিক আইনি ব্যবস্থা সেই ঔপনিবেশিক দমন নীতিকেই আরও আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো ‘প্রশাসনিক আটক’ (Administrative Detention), যার অধীনে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রমাণ বা আদালতের শুনানি ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের, বিশেষ করে শিশুদের, মাসের পর মাস অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিগত দুই বছরে এই আদেশের অধীনে ফিলিস্তিনি শিশুদের আটক রাখার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক আদালতের সামনে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য এই শিশুদের ওপর ব্যাপক শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কোনো আইনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে সার্বক্ষণিক নজরদারি, ভয় এবং দমনের মধ্যে রাখার জন্য পরিচালিত হয়।
সদে তেইমান ও অন্যান্য কারাগার: নির্যাতনের নতুন রূপ
৭ই অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি আটক কেন্দ্র ও কারাগারগুলোতে নিষ্ঠুরতা এক নজিরবিহীন ও প্রতিশোধমূলক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। সদে তেইমান সামরিক কারাগারটি এই নিষ্ঠুরতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বন্দীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি তীব্র মানসিক নির্যাতন চালানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে—দিনের পর দিন অনাহারে রাখা (দৈনিক মাত্র ৮০০ ক্যালোরি খাবার দেওয়া, যার ফলে বন্দীদের অবয়ব হলোকাস্টের সিনেমার কঙ্কালসার বন্দীদের মতো হয়ে যায়), ক্রমাগত ব্যাপক মারধর, পুড়িয়ে দেওয়া, হাড় ও দাঁত ভেঙে দেওয়া এবং অত্যন্ত কষ্টদায়ক ভঙ্গিতে (স্ট্রেস পজিশন) ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে বা বসিয়ে রাখা।
এর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে পশুর মতো আচরণ এবং হিংস্র কুকুরের ব্যবহার। বন্দীদের বিবস্ত্র করে পরিবারের সদস্যদের সামনে অথবা ক্যামেরার সামনে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা এবং ক্রমাগত অপমান করা এখানে একটি দৈনন্দিন নিয়মে পরিণত হয়েছে। একজন আইনজীবী বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, বন্দীরা এমন এক পরম বা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার মুখোমুখি যেখানে ইসরায়েলি রক্ষীরা মনে করে, “আমরা ফিলিস্তিনিদের সাথে যা খুশি তা-ই করতে পারি।”
যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে সুপরিকল্পিত যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণ
এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে অন্ধকার ও শিউরে ওঠার মতো দিকটি হলো ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের ব্যবহার। যেখানে ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের ঘটনায় কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীদেরও ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্র সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ডকুমেন্টারি প্রমাণ করে যে, এটি কেবল তথ্য বের করার কোনো জিজ্ঞাসাবাদের অংশ নয়, বরং এটি বন্দীদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে ধ্বংস করার একটি জঘণ্য হাতিয়ার।
-
পুরুষ ও শিশুদের ওপর নির্যাতন: সদে তেইমান কারাগারে বন্দীদের ডাঙ্গা দমনের সরঞ্জাম (রায়ট গিয়ার) দিয়ে আড়াল করে লোহার রড, ধারালো লোহা, মেটাল ডিটেক্টর, বোতল এবং মোছার লাঠি (মপ স্টিক) দিয়ে পদ্ধতিগতভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। ১৫ বছর বয়সী এক শিশুর ওপরও এই ধরণের ভয়াবহ বস্তু দ্বারা যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ বন্দীদের অণ্ডকোষ ও যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে বারবার আঘাত করা হয়েছে, যা তাদের প্রজনন ক্ষমতাকে চিরতরে নষ্ট করে দেয়।
-
নারীদের ওপর সহিংসতা: গাজা ও পশ্চিম তীরের নারীদের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি পুরুষ সৈন্যদের দ্বারা দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ (গ্যাং রেপ) এবং তা ভিডিও করার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। এমনকি ইসরায়েলি নারী সৈন্যদের দ্বারাও ফিলিস্তিনি নারীদের সুনির্দিষ্ট সরঞ্জাম ব্যবহার করে যৌন নির্যাতন ও নগ্ন তল্লাশির নামে অবমাননা করা হয়েছে। দরজা বন্ধ করে তল্লাশির প্রতিবাদ করায় একজন নারী তার বাম চোখ হারিয়েছেন।
এই যৌন সন্ত্রাসের মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি সমাজের রক্ষণশীল কাঠামো এবং মনস্তাত্ত্বিক লোকলজ্জা বা সামাজিক কলঙ্কের সুযোগ নিয়ে সমগ্র জনপদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে তারা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
আইনি ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং ‘বীরত্ব’ হিসেবে অপরাধের উদযাপন
একটি গণতান্ত্রিক বা সভ্য সমাজের ন্যূনতম বৈশিষ্ট্য হলো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা, কিন্তু ইসরায়েলি সমাজে এই নৈতিক মূল্যবোধের ব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। সদে তেইমান কারাগারের যে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ একজন ইসরায়েলি সৈন্যের মাধ্যমে বাইরে ফাঁস হয়েছিল, যেখানে স্পষ্ট দেখা গেছে সৈন্যরা একজন বন্দীকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আড়ালে নিয়ে যাচ্ছে, তার পরিণতি ছিল চরম হতাশাজনক। অভিযুক্ত সৈন্যদের বিরুদ্ধে বিচার করা তো দূরের কথা, ইসরায়েলি সমাজ, জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল এবং কট্টরপন্থী পার্লামেন্ট সদস্যরা তাদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে উদযাপন করেছেন। উল্টো, যে শীর্ষ সামরিক আইনজীবী (মেজর জেনারেল ইফাত তোমের-ইেরুশালমি) এই ভিডিও ফাঁসের তদন্তের অনুমতি দিয়েছিলেন, তাকে ন্যায়বিচারে বাধা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে পদত্যাগ করতে ও আটক হতে হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির (Itamar Ben-Gvir) নিজেই বন্দীদের এই অবমাননাকর ও নির্মম নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে বা টুইটারে পোস্ট করে গর্ব প্রকাশ করেন। পুলিশ এবং কারাগার ব্যবস্থা (IPS) সরাসরি তাঁর অধীনে থাকায়, কোনো ফিলিস্তিনি বন্দীর পক্ষে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া অসম্ভব। আইনজীবীরা যখনই কোনো জেলা বিচারকের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন, বিচারকরা সরাসরি বলেছেন, “আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব না।”
|
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ও বৈশ্বিক রাজনীতির দ্বিচারিতা
আইনি পরিভাষায়, কোনো সশস্ত্র সংঘাত বা সামরিক দখলের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগতভাবে সংঘটিত যৌন সহিংসতা একটি যুদ্ধাপরাধ (War Crime)। কিন্তু যখন এই কাজগুলো বিচ্ছিন্ন না হয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক নীতির অংশ হিসেবে সুপরিকল্পিত এবং ব্যাপক (widespread and systematic) আকার ধারণ করে, তখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) রোম সংবিধি (Rome Statute) অনুযায়ী তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ (Crimes Against Humanity) হিসেবে গণ্য হয়। অধিকন্তু, যখন কোনো সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্মদান প্রতিরোধ করার জন্য তাদের যৌনাঙ্গ বা প্রজনন স্বাস্থ্যকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং তাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়, তখন তা গণহত্যা (Genocide)-র রূপ নেয়। রাফায়েল লেমকিন (Raphael Lemkin), যিনি ‘জেনোসাইড’ শব্দটির প্রবক্তা, তিনি সতর্ক করেছিলেন যে গণহারে আটক, ধর্ষণ এবং সুনির্দিষ্ট নিপীড়ন হলো গণহত্যার পূর্ববর্তী প্রস্তুতিমূলক পর্যায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এই ধরনের অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার রাখলেও, বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও পরাশক্তিগুলোর দ্বিমুখী নীতি এই ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার শক্তিশালী মিত্ররা ইসরায়েলকে পূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়ে চলেছে। মার্কিন প্রশাসনের দ্বারা আইসিসির বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও নেতানিয়াহু বা ইসরায়েলি নেতাদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন যেন অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীদের ওপর নিপীড়ন
ফিলিস্তিনিদের পক্ষে যে সমস্ত মানবাধিকার সংস্থা বা আইনজীবীরা কাজ করছেন, তাদের মুখ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলি রাষ্ট্র চরম দমনমূলক নীতি গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, যখন ১৫ বছর বয়সী এক শিশুর ওপর বস্তু দ্বারা ধর্ষণের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে পেশ করা হয়, তার পরের দিনই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) ‘ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল – প্যালেস্টাইন’ (DCIP) অফিসে হানা দিয়ে তাদের সমস্ত কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করে এবং সংস্থাটিকে একটি ‘সন্ত্রাসী সত্ত্বা’ হিসেবে ঘোষণা করে। ফিলিস্তিনি বন্দীদের পক্ষে লড়াই করা আইনজীবীদের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ওপর মারাত্মক শারীরিক হামলা চালানো হচ্ছে। এই যুদ্ধের মধ্যে বহু আইনজীবী, তাদের পরিবার এবং সহকারীকে পরিকল্পিত বোমাবর্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।
“সুমুদ”: সহনশীলতা ও প্রতিরোধের অদম্য চেতনা
এই চরম অন্ধকার, আতঙ্ক এবং যৌন সন্ত্রাসের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের ভেতরকার একটি বিশেষ আত্মিক শক্তি “সুমুদ” (Sumud)-কে ধ্বংস করা। সুমুদ হলো ফিলিস্তিনিদের সহনশীলতা, অদম্য টিকে থাকার ক্ষমতা এবং নিজের ভূমির প্রতি অবিচল থাকার চেতনা। ইসরায়েলি রাষ্ট্র মনে করেছিল এই তীব্র নির্যাতন ও কলঙ্কজনক অধ্যায়ের মুখোমুখি হয়ে ফিলিস্তিনিরা হাল ছেড়ে দেবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র পুরো উল্টো চিত্র।
৭ই অক্টোবরের পর থেকে অনেক সাহসী ফিলিস্তিনি নারী ও পুরুষ সমস্ত সামাজিক বাধা ও লোকলজ্জা ভেঙে গণমাধ্যমে এসে তাদের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা বলতে শুরু করেছেন, যা সমাজের বাকি ভুক্তভোগীদেরও কথা বলার সাহস জুগিয়েছে।
আসলে “সুমুদ” (Sumud)-এর এই ধারণাটিকেই স্তব্ধ করতে হবে, গুঁড়িয়ে দিতে হবে, কারণ এটি একটি বৈশ্বিক বিপ্লব—একটি ব্যবস্থা-বিরোধী, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী বিপ্লবের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
এটি একটি হুমকি?
সূত্র: ‘আল-জাজিরা ইংরেজি’র ডকুমেন্টারি ভিডিও থেকে সংক্ষিপ্তাকারে বিশ্লেষণ

