চট্টগ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। ‘চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপ্লাই ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক এই প্রকল্পে সংস্থাটি ২৮ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলার সমান ১২১ দশমিক ৪৩ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি।
শনিবার, ১০ মে রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) এ সংক্রান্ত ঋণচুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি গেইল এইচ মার্টিন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্প ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। এর আওতায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং জলবায়ু সহনশীল পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রশাসনিক দক্ষতা ও আর্থিক টেকসইতা বৃদ্ধির কাজও এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।
ঋণচুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের অনুদান দুই ধরনের সময়সীমার আওতায় থাকবে। প্রথমত, ১৪ কোটি ডলারের অর্থায়ন আসবে বিশ্বব্যাংকের স্কেল আপ উইন্ড থেকে, যার পরিশোধে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৩৫ বছর সময় থাকবে। এ অংশে কোনো সার্ভিস চার্জ বা সুদ না থাকলেও ঋণের শুরুতে ০.২৫ শতাংশ হারে ফ্রন্ট ইন্ড ফি দিতে হবে। দ্বিতীয় অংশটি ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ বছরে পরিশোধযোগ্য। এ অংশের অর্থের ওপরও কোনো সুদ বা অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপ করা হবে না।
বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশকে ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অর্থায়ন দুই পক্ষের মধ্যে গভীর সহযোগিতা এবং আস্থার ভিত্তি তৈরি করেছে।
বর্তমানে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে ১৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারের ৪৭টি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের এ সহায়তা চট্টগ্রামবাসীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।

