ইউক্রেন জুড়ে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা ইউক্রেন যুদ্ধকে আবারও ভয়াবহ এক মোড়ে নিয়ে গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার ১৩ মে সকাল থেকেই রুশ হামলা শুরু হয় এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে চলে।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ, পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ এবং কৃষ্ণসাগর তীরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ওডেসা। এছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলে দুর্বল করে দেওয়া। তাঁর আশঙ্কা, ড্রোন হামলার পর আরও বড় ধরনের ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালানো হতে পারে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর প্রোকুদিন জানান, বিলোজেরকা শহরে একটি বাসে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে এক নারী নিহত হন। হামলার পর স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় রিভনে অঞ্চলে আরেকটি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর ওলেক্সান্দর কোভাল।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ অঞ্চলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জোলোচিভ শহরের কাছে একটি কমিউনিটিতে রুশ বাহিনীর এফপিভি ড্রোন হামলায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হামলায় দুটি বাড়ি এবং কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আরও দক্ষিণে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি কৃষি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ওই অঞ্চলের কর্মকর্তা ইভান ফেদরভ জানান, গাইডেড এয়ার বোমা ব্যবহার করে চালানো হামলায় ৭৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের ভবনগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করছে। বিশেষ করে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে বহু শহরে বিদ্যুৎ সংকট, নিরাপত্তাহীনতা এবং মানবিক সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছে, আর প্রতিদিন নতুন হামলার আশঙ্কায় জীবনযাপন করছে লাখো মানুষ।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ফলে আগামী দিনগুলোতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

