অবাক করার মতো তথ্য দিয়েছে স্যামসাং। তারা এখন শুধু স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচেই সীমাবদ্ধ থাকছে না—আসছে এমন ডিভাইস, যা আপনি গলায় ঝুলিয়ে নিতে পারেন, কানে পরতে পারেন বা আঙুলে পরে রাখতে পারেন।
স্যামসাংয়ের মোবাইল এক্সপেরিয়েন্স ডিভিশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ওয়ন-জুন চোই সম্প্রতি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যতের ডিভাইসগুলো হওয়া উচিত এমন, যা আপনি বহন করবেন না—পরিধান করবেন।”
চোইয়ের ভাষায়, “গ্লাসেস, দুল, ঘড়ি, আংটি বা নেকলেস—এসবই এখন আমাদের গবেষণার আওতায়। সবই হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI-powered) নতুন ধরনের ডিভাইস।”
তবে এখনই এই প্রযুক্তি বাজারে চলে আসবে এমন নয়। স্যামসাং, অন্যান্য টেক জায়ান্টদের মতোই, নিয়মিত বিভিন্ন প্রযুক্তির প্রোটোটাইপ তৈরি করে ও অভ্যন্তরীণভাবে পরীক্ষা চালায়।
এআই এখন শুধু কথোপকথনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ChatGPT বা Google Gemini-এর মতো সেবা দিন দিন আরও জটিল কাজ সামলাতে পারছে। ফলে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন এমন ডিভাইস তৈরি করতে চাইছে যা কম ইনপুটে (টাইপিং-সোয়াইপিং ছাড়াই) বেশি আউটপুট দেবে।
এ কারণেই স্মার্ট চশমা নিয়ে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী। মেটা তাদের Ray-Ban স্মার্ট গ্লাস ইতিমধ্যেই ২০ লাখের বেশি বিক্রি করেছে, আর এখন Ray-Ban-এর মূল কোম্পানি EssilorLuxottica-তে বিনিয়োগও করেছে।
স্যামসাং, গুগল ও স্ন্যাপ–সবাই এখন স্মার্ট গ্লাস নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে, OpenAI ও অ্যাপলের সাবেক ডিজাইনার জনি আইভ এক রহস্যজনক নতুন AI ডিভাইস নিয়ে কাজ করছেন, যা ২০২৬-এ বাজারে আসতে পারে।
স্যামসাং জানিয়েছে, তারা কানে পরার স্মার্ট দুল, আংটি, পেনডেন্ট বা নেকলেসের মতো ডিজাইন নিয়েও ভাবছে। যদিও এখনো এসব ডিভাইসের বাস্তবায়ন চূড়ান্ত নয়, তবে প্রতিষ্ঠানটি “সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।”
চোই বলেন, “সবাই গ্লাসেস পরতে চায় না, কারণ এতে তাদের চেহারা বদলে যায়। তাই আমরা বিকল্প কিছু ডিজাইন করছি।”
স্যামসাংয়ের ভবিষ্যৎ এআই ডিভাইস হবে স্মার্টফোনের সঙ্গী, কোনো স্বাধীন গ্যাজেট নয়। ঠিক যেমনটা তাদের গ্যালাক্সি ওয়াচ কাজ করে স্মার্টফোনের সাপোর্ট ডিভাইস হিসেবে।
এই রকম নতুন ধরনের ডিভাইস তৈরিতে অনেক স্টার্টআপ ইতোমধ্যে হোঁচট খেয়েছে।
- Humane AI Pin: অ্যাপলের প্রাক্তন দুই কর্মীর তৈরি ডিভাইসটি দামে বেশি ও কাজে সমস্যাজনক হওয়ায় ব্যর্থ হয়। পরে এটি বিক্রি হয়ে যায় HP-র কাছে।
- Rabbit R1: ডিভাইসটি নিয়ে আশাবাদী অনেকে, কিন্তু শুরুতে গ্রাহক সাড়া পাননি। যদিও পরে আপডেট এসেছে।
- Friend Necklace: এআই সঙ্গী হিসেবে একটি ডিজিটাল নেকলেস তৈরি করেছে একটি স্টার্টআপ, যার উন্মোচন বারবার পিছিয়েছে।
এসব ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা নিচ্ছে স্যামসাং। তারা এমন কিছু তৈরি করতে চায়, যা একা একা কাজ করবে না, বরং ফোনের সঙ্গে সমন্বয়ে চলবে।
এতদিন প্রযুক্তি থাকত পকেটে, ব্যাগে বা হাতে। স্যামসাং বলছে, এবার প্রযুক্তি আসবে গলার হার হয়ে, কানের দুল হয়ে কিংবা আঙুলের আংটি হয়ে। এটাই হতে পারে প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ, যেখানে গ্যাজেট আর গ্যাজেট থাকবে না—হবে স্টাইল, হবে সঙ্গী।
চোইয়ের ভাষায়, “পরিধানযোগ্য ডিভাইস মানেই হাতে বা চোখে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের শরীরের প্রতিটি কোণ এখন প্রযুক্তির প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।”

