গুজরাটের সুরাট শহর ভারতীয় হীরার কেন্দ্রবিন্দু। এখানে ছোট বড় কয়েক হাজার হীরা কাটা ও পালিশের কারখানা আছে। এর মধ্যে কালপেশ পাটেলের কারখানায় প্রায় চল্লিশজন শ্রমিক কাজ করেন। তার কারখানার হীরা রপ্তানি হয় বিশ্ববাজারে।
দীপাবলির উৎসবকে সামনে রেখে কারখানায় ব্যস্ততা তুঙ্গে। কিন্তু বছর কয়েকের ব্যবসায়িক উত্থান-পতনের পর এবার নতুন ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতের হীরার রপ্তানিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
কালপেশ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “দীপাবলির আগে কিছু অর্ডার পেয়েছি, সেগুলো শেষ করার চেষ্টা করছি। তবে আশঙ্কা হচ্ছে, মার্কিন বাজারে শুল্কের কারণে অনেকে অর্ডার বাতিল করতে পারে। যদি বিদেশি অর্ডার না আসে, কর্মীদের বেতন দিয়ে কারখানা চালানো সম্ভব হবে না।”
সুরাটে প্রায় ২০ হাজার ছোট-মাঝারি হীরা ব্যবসায়ী রয়েছেন। ভারতের হীরার প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে গত অর্থবছরে ভারত ৪.৮ বিলিয়ন ডলারের কাটা ও পালিশ করা হীরা রপ্তানি করেছে। দেশের মোট হীরার রপ্তানি ছিল ১৩.২ বিলিয়ন ডলার।
কলকাতার হীরা রপ্তানিকারক ডিম্পল শাহ বলেন, “প্রায় ২০ বছর ধরে হীরার ব্যবসা করছি, এমন দুর্দশা আগে দেখিনি। মার্কিন ক্রেতারা শুল্কের কারণে পণ্য কিনতে নারাজ।”
করোনা মহামারী, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন এবং জি৭-এর নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় হীরা শিল্প দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত। রাশিয়া থেকে কাঁচামাল আমদানির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে।
জিজেইপিসির তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হীরা রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৬.৮ শতাংশ কমে ১৩.৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার এই শিল্পকে রক্ষা করতে পারে। উত্তর প্রদেশের বারাণসীর রাধাকৃষ্ণ আগারওয়াল বলেন, “মার্কিন শুল্ক শাপে বর হিসেবে কাজ করবে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হীরা শিল্পকে শক্তিশালী করতে পারে।”
সুরাটের হীরা কারখানাগুলো এখন অপেক্ষায়, দীপাবলির উৎসব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে। কালপেশসহ লাখ লাখ শ্রমিকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

