অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী সরকারের মন্ত্রী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য ২৮০টি নতুন গাড়ি কেনার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি গাড়ি বরাদ্দ হবে পরবর্তী মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য। বাকি ২২০টি গাড়ি যাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য। সব মিলিয়ে সরকারের খরচ হবে ৪৪৫ কোটি টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২১ আগস্ট এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এসব গাড়ি কেনা হবে। মন্ত্রীদের জন্য কেনা হবে মিতসুবিশি পাজেরো কিউএক্স-২৪২৭ সিসি মডেলের গাড়ি। প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ৬১ হাজার টাকা। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য আসবে ১৯৫টি পাজেরো জিপ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জন্য ২৫টি মাইক্রোবাস। প্রতিটি জিপের দাম এক কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং প্রতিটি মাইক্রোবাসের দাম ৫২ লাখ টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী ২২০টি গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ৩৪৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি কিনতে লাগবে প্রায় ১০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ফলে সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়াচ্ছে ৪৪৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩২৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অতিরিক্ত ৯৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা মেটাতে অন্য খাতের অর্থ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ গত ৮ জুলাই জারি করা সরকারি পরিপত্রে বলা হয়েছিল, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ থাকবে। শুধু ১০ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে নতুন গাড়ি কেনা যাবে। অথচ মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ গাড়ি ৯ বছরের পুরনো, ফলে এই শর্ত পূরণ হয়নি।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নয় পরবর্তী মন্ত্রিসভার জন্য গাড়ি কেনা। ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপের পরিপত্র উপেক্ষা করাও অনভিপ্রেত। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।” অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দেশের বাইরে থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করা হলেও অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ৬ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমানের সভাপতিত্বে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় গাড়ি কেনা নিয়ে এখন নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কেন এখনই গাড়ি কেনা হচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে ধরে নিল আগামী মন্ত্রিসভা হবে ৬০ সদস্যের।

