বাস্তবায়নকারীদের ঘোষণা অনুসারে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামা খনি হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রেকো দিক তামা ও স্বর্ণ খনি প্রকল্প। সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রতিশ্রুত একটি বিনিয়োগকারী সংস্থা প্রকল্প থেকে সরে গেছে। এরপর কানাডার খননকারী সংস্থা বারিক মাইনিং মার্কিন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে রেকো দিক প্রকল্পে মোট ঋণ প্রতিশ্রুতি দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি ডলার।
দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), মার্কিন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কানাডা যৌথভাবে প্রকল্পটিতে ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বেলুচিস্তানের চাগাই জেলায় অবস্থিত রেকো দিক প্রকল্পে বারিক মাইনিং-এর অংশীদারিত্ব ৫০ শতাংশ। বাকি অংশ সমানভাবে পাচ্ছে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্পটি থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার নিট নগদপ্রবাহ আসবে।
প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ৬৬০ কোটি ডলার। এর মধ্যে পাকিস্তান ও বারিক সম্মিলিতভাবে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। বাকি অর্থ সরবরাহ করবে বহিরাগত ঋণদাতারা। পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার মাধ্যম রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, এই ঋণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রেকো দিক মাইনিং-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোম্পানি বর্তমানে বহিরাগত উৎস থেকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ সংগ্রহের কাজ করছে। তারা আশা করছেন, চলতি বছরের মধ্যেই পুরো তহবিল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। এদিকে এডিবি এক সংবাদ বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে রেকো দিক হবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তামা খনি।
পাকিস্তানি আইন ও কর পরামর্শদাতা ইকরাম উল হক বলেন, “ঋণদাতাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে যে রেকো দিক বিশ্বের অন্যতম বড় তামা ও স্বর্ণের খনিজ মজুদ ধারণ করে। এখানে শুধু তামা ও স্বর্ণ নয়, দুষ্প্রাপ্য অন্যান্য খনিজও রয়েছে।” এর আগে সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত খনি বিনিয়োগকারী মানারা মিনারেলস প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু তারা প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলে বাকি ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছে। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের গদরে জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পেও সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসে।

