এক থেকে দেড় বছর আগে থেকেই দেশে সোনার দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। সেই সময় থেকেই ব্যবসায় একধরনের মন্দাভাব শুরু হয়েছে। চলতি মাসে সোনার দাম আরও বাড়ায় জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। দোকানগুলোতে সোনার কিনতে আগ্রহী গ্রাহক কমে যাওয়ায় ব্যবসায়িক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি শুধু দেশে নয়। ভারত এবং দুবাইতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সোনার দাম বাড়ায় ক্রেতারা লেনদেনে অনীহা প্রকাশ করছেন। জুয়েলার্সরা আশা করছেন, দাম স্থিতিশীল হলে ক্রেতার সংখ্যা পুনরায় বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সোনার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, ভালো মানের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকেরা যেমন নতুন অলংকার কিনতে আসছেন না, তেমনি পুরোনো অলংকার বিক্রিও সেভাবে বাড়েনি। তার কারণে অনেকেই মনে করছেন, সোনার দাম দুই লাখ ছাড়িয়ে যাবে। সে জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে। তবে জরুরি প্রয়োজনে কেউ কেউ পুরোনো অলংকার বিক্রি করতে আসছেন। তাঁরা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন।
বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেশে বৈধভাবে সোনা আমদানির প্রক্রিয়ায় কোনো গতি নেই। সে কারণে বিশ্ববাজার থেকে কিছুটা বেশি দামেই কিনতে হয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা আমদানি করে বিক্রি করে। আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগিয়ে এলে সাধারণ মানুষ কিছুটা কম দামে সোনা কিনতে পারবে। সোনায় বিনিয়োগের দুয়ারও খুলবে। এমনকি জুয়েলারি ব্যবসায় স্বচ্ছতা আসবে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক সোনা বিক্রি করে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব সরকারের কোষাগারে দিতে পারবে। তাই সোনার বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
মাসুদুর রহমান, সহসভাপতি, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। সূত্র: প্রথম আলো

