যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে মূল কারণ সরকারি ব্যয় ও রাজস্বের ব্যবধান দ্রুত বাড়া। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ ট্রিলিয়ন ১৯ বিলিয়ন ৮১৩ মিলিয়ন ডলার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই ঋণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য গড়ে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ডলারের সমান। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এই ঋণের পরিমাণ চীন, ভারত, জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির সম্মিলিত মূল্যের সমান। শুধু দুই মাসের বেশি সময় আগে, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ঋণ ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। এটি ঋণের দ্রুত বৃদ্ধির প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল এ পিটারসন বলেন, মার্কিন আইনপ্রণেতারা তাদের মৌলিক আর্থিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি বলেন, “এক ট্রিলিয়নের পর আরেক ট্রিলিয়ন ঋণ যোগ করে সংকটের পর সংকটে বাজেট তৈরি করা এক মহান জাতির জন্য মোটেও ঠিক নয়।” তিনি সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল সংস্কারের আহ্বান জানান।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিজ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের মান ‘ট্রিপল এ’ থেকে নামিয়ে ‘ডাবল এ ওয়ান’ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ও সুদের ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা প্রতিহত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে ফিচ ও স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস যথাক্রমে ২০১১ ও ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট রেটিং নামিয়ে দেয়।
অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও সবাই একমত যে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণধারা টেকসই নয়। ২০২৩ সালের এক বিশ্লেষণে পেন ওয়ারটন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদরা অনুমান করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ যদি জিডিপির ২০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে আর্থিক বাজার তা সহ্য করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশটির ঋণ জিডিপির ২০০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর আওতায় দেওয়া ব্যাপক করছাড়কে উল্লেখ করা হয়েছে।

