বাংলাদেশে আগামী মার্কেটিং বছর (MY) ২০২৫-২৬-এ ধানের উৎপাদন কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। মার্কেটিং বছরের শেষ ফসল, আমন ধানের ফসল, দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমানে চলমান। ধানের জমির আবাদ এবং উৎপাদনের বৃদ্ধির কারণে এ বছর দেশে ধানের মোট উৎপাদন বেড়ে ৩ কোটি ৭৬ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছর (MY25) ছিল ৩ কোটি ৬৬ লাখ টন। এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দফতর (USDA)।
USDA জানিয়েছে, এই বছর আমন ধান জুলাই-অগাস্টে রোপণ করা হয়েছিল। উত্তরের, উত্তর-পশ্চিমের এবং মধ্যাঞ্চলের ধান কাটার কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের ফসল ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ কাটা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
“উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা যদিও উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে, তবু ভালো ফসল পেয়েছেন,” USDA’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ দফতরের (DAE) সাম্প্রতিক তথ্য এবং USDA’র মাঠ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বছর আমন ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় ৫৮ লাখ হেক্টর জমিতে, যার মোট উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ টন। USDA জানিয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি অফিসের তথ্য অনুসারে এ বছর ফসলের গুণগত মান এবং পরিমাণ দুটোই সন্তোষজনক।
বাজার বছরের প্রথম ফসল, বোরো ধানের ক্ষেত্রেও আবাদ অপরিবর্তিত থাকবে বলে USDA আশা করছে। বোরো ধানের মোট উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫ লাখ টন। অন্যদিকে, আউস ধানের উৎপাদন পূর্বাভাস বাড়িয়ে ২৩.৫ লাখ টনে আনা হয়েছে, যা গত বছরের ২১ লাখ টনের তুলনায় বেশি।
উৎপাদন বেড়লেও, দেশের ধানের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (TCB) জানাচ্ছে, নভেম্বর ২০২৫-এ আভিজাত্যহীন চালে খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ৫৭.০৩ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭% বেশি। একই সময়ে উচ্চমানের ফাইন রাইসের খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ৭৮.৩ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৭% বেড়েছে।
USDA প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো উচ্চ উৎপাদন খরচ, মিলিং খরচ, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এবং অপ্রতিসিদ্ধ সরবরাহ শৃঙ্খলা। ধানসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় বহু বাজার সংস্থা যুক্ত থাকায় খরচ বাড়ছে এবং তা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার উপর পড়ে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আবাদ বাড়লেও মূল্যস্ফীতির প্রভাব ও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা ভোক্তাদের ধান ক্রয়ে প্রভাব ফেলবে। তবে ভালো ফসল এবং উত্পাদনের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে আগামী বছর দেশে ধানের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

